ছেলে মারা যাওয়ার পর নাতীদেরকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া
প্রশ্ন
আমার সর্বমোট আট ছেলে, দশ মেয়ে। পঞ্চম নম্বর ছেলে তিন ছেলের পিতা। ঘটনা ক্রমে রোগাক্রান্ত হয়ে সে আমার তিন নাতী রেখে মারা গিয়েছে। আমি ঐ নাতীদেরকে নিজ সম্পত্তি থেকে সম্পত্তি লিখে দিতে চাই, কিন্তু আমার অন্য ছেলেরা বাধা প্রদান করছে। এ ব্যাপারে শরয়ী বিধান কি?
উত্তর
মাসআলা হল এই যে ইয়াতীম পৌত্রদের জন্য দাদা তার সম্পত্তি থেকে ইয়াতীমদের জরুরত পূর্ণ হয় এ পরিমাণ সম্পত্তি হেবা হিসেবে দান করে লিখে দিতে পারবেন। এটা দাদার ঈমানী ও নৈতিক জিম্মাদারী। দাদা কর্তৃক ইয়াতীমদের জরুরত মুতাবিক সম্পত্তি দেয়ার সুযোগ লাভের জন্য ইয়াতীমদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ওয়ারিশ বানাননি। কারণ যদি তারা পিতার স্থলে ওয়ারিশ হত, তাহলে তারা মৃত পিতার অংশটুকুই পেত যা তাদের অন্যান্য চাচাদের অংশের সমান। এর থেকে বেশী পাওয়ার কোন সুযোগ হত না। কিন্তু এতে হয়ত তাদের ঠেকা ও জরুরত পূর্ণ হত না। অপরদিকে তাদের পিতা বেঁচে নেই। এই সমস্যা সমাধানের জন্য শরী‘আতে তাদেরকে ওয়ারিশ বানানো হয়নি। ওয়ারিশ থেকে বাহিরে রাখা হয়েছে। কারণ, ওয়ারিশ হলে, মৃত পিতার অংশ থেকে বেশী পাওয়ার সুরত নেই। আর ওয়ারিশ না হওয়ায় তাদের জরুরত পরিমাণ, পিতার অংশের চেয়েও বেশী পাওয়ার ব্যবস্থা আছে। কারণ দাদা সুস্থ অবস্থায় ইয়াতীম নাতীদের জরুরতের প্রেক্ষিতে যে অংশ দিবেন, এটা মীরাছ নয়, বরং হেবা এবং সুস্থ অবস্থায় তার সম্পূর্ণ মাল অন্যকে হেবা করার অধিকার আছে। সুস্থ অবস্থায় অন্যকে হেবা করার জন্য কোন পরিমাণ শরী‘আতে নির্ধারণ করা হয়নি।
অবশ্য মৃত্যুর আগে মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায় অসিয়্যত করতে চাইলে, তিন ভাগের এক ভাগের মধ্য থেকে করা জরুরী। সুতরাং, আপনি নাতীদের প্রয়োজন লক্ষ করে যতটুকু দেয়া দরকার, তা হেবা করে দেন। এটা আপনার জন্য নৈতিক ও দ্বীনী জিম্মাদারী। কারণ তাদের পিতা নেই, সহায়-সম্পদ নেই। আপনার দানের উপরই তাদের ভবিষ্যত নির্ভর করছে বলা বাহুল্য, এমতাবস্থায় শরী‘আত দাদাকে পিতার স্থলাভিষিক্ত ঘোষণা করেছে। এ কারণেই ইয়াতীম বাচ্চা সম্পদ রেখে মারা গেলে, দাদা পিতার ন্যায় উক্ত ইয়াতীম বাচ্চার মীরাছ পেয়ে থাকে। তো শরী‘আত যখন দাদাকে ইয়াতীমদের পিতা ঘোষণা করেছে, তখন দাদা তাদেরকে নিজের সম্পদ থাকতে না দিয়ে কার দায়িত্বে ছেড়ে যাচ্ছেন? একটু চিন্তা করলেই বিষয়টা সহজে বুঝে আসে। ইয়াতীমদেরকে তাদের সুবিধার জন্যই ওয়ারিশ থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, একথা বহু দাদা দ্বীনী জ্ঞানের অভাবে বুঝতে পারেন না। বরং উল্টা বুঝে আফসোস করতে থাকেন যে, আমিতো ইয়াতীম নাতীদের দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহ তো দিতে দিলেন না, (নাউজুবিল্লাহ)।
আবার অনেক দাদা হয়তো দয়া পরবশ হয়ে জিম্মাদারী মনে করে ইয়াতীমদের কিছু সম্পদ দিতে চান, কিন্তু জাহিল নির্দয় চাচারা দিতে দেয় না। ঐ সব চাচাদের দিল পাথর হয়ে গেছে এবং দুনিয়ার মোহে তারা সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে গেছে। এ মাল কখনও তাদের জন্য বরকতের কারণ হবে না। উল্লেখ্য সাবেক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খাঁনও আল্লাহর এ বিধান বুঝতে না পেরে কুরআনী আইনে হস্তক্ষেপ করে নিজেকে ধ্বংস করেছে। আইয়ুব খাঁন চলে গেছে, কিন্তু তার এ অভিশপ্ত কানুন অর্থাৎ ইয়াতীম নাতীগণ মীরাছ পাবে, পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালগণ ধরে রেখেছেন। সকল অভিশপ্ত আইনের বেলায় একই নিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা নিতান্ত দুঃখজনক। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া মাহমূদিয়া, ১৪ /৪৩৮]