খুৎবার পূর্বে মিম্বরে বসে বয়ান করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৮ অক্টোবর, ২০২৪নামায

প্রশ্ন

“দাওয়াতুল হক্ব”- এর এক মজলিসে শুনতে পেলাম যে,“জুমু’আর খুৎবার পূর্বে মিম্বারে বয়ান করার যে পদ্ধতি আমাদের দেশে চালু রয়েছে তা সুন্নাত পরিপন্থী। কারন, এর দ্বারা জুমু’আর গুরূত্ব হ্রাস পায়।” অতঃপর সে অনুযায়ী আমল ও আরম্ভ করা হয় অর্থাৎ, জুমু’আর খুৎবার পূর্বের বয়ানের জন্য মিম্বারের পার্শ্বে একটি চেয়ার রাখা হয় এবং খতীব সাহেব তাতে বসেই বয়ান করেন। কিন্তু এতে বিভিন্ন রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে; বিধায় যথোপযুক্ত প্রমাণসহ বিস্তারিত জানিয়ে কৃতার্থ করবেন বলে আশা করি।

উত্তর

মসজিদে চেয়ার এন তাতে বসে ওয়ায নসীহত করা সম্পূর্ণ জায়িয। আর জুমু‘আর ফরয নামাযের পূর্বে বা পরে মিম্বরে বসে ওয়ায নসীহত না করে চেয়ারে বসে তা করাটাই উত্তম এবং এটাই সুন্নাত। উল্লেখ্য যে, মসজিদের ভিতরে চেয়রে বসে স্বয়ং নবীজী ﷺ-ও ওয়াজ নসীহত করেছেন। যেমন মুসলিম শরীফের একটি হদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, হযরত আবু রিফা‘আহ রাযি. বর্ণনা করেন যে, আমি নবীজীর ﷺ নিকট এমতাবস্থায় পৌঁছেছি যে, তখন তিনি তখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর বাসূল! ﷺ এক অপরিচিত মুসাফির ব্যক্তি এসেছে। সে দ্বীন সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ বিধায় সে এ সম্পর্কে জানতে চায়। তিনি বর্ণনা করেন যে, এরপর রাসূলে আকরাম ﷺ খুতবা দেয়া স্থগিত রেখে আমার ‍দিকে অগ্রসর হলেন এবং একেবারে আমার নিকটে চলে এলেন। এরপর সেখানে চেয়ার আনা হল। তিনি (সাহাবী) বলেন, আমার মনে হয় চেয়ারের পায়াগুলো লোহার ছিল। তিনি উক্ত চেয়ারে বসে আমকে সেই জিনিসগুলো শিক্ষা দিলেন যেগুলো তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন স্বয়ং মহান রাব্বুল আলমীন। অতঃপর তিনি খুতবা ব্যতীত ওয়ায-নসীহত করার জন্য মসজিদে চেয়ার ব্যবহার করেছেন এবং মিম্বরে বসে ওয়য করেননি; সুতারাং এটা সুন্নাত।

বর্তমানে আমাদের সমাজে মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে ওয়ায নসীহত করাকে যেরূপভাবে নাজায়িয বাখারাপ মনে করে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়ে থাকে এরূপ প্রশ্ন এর পূর্বেও কিছু লোক কেরেছে। যেমন ফাতাওয়া মাহমূদিয়ায এ ধরণের প্রশ্ন রয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, উক্ত হাদীস ইমাম বুখারী রহ. তার কিতাব “আদাবুল মুফরাদ” এর মধ্যে এনেছেন। সুতরাং যে ব্যাপারে স্পষ্ট হাদীস রয়েছে সে ব্যাপারে অযথা প্রশ্ন করা অজ্ঞতা ও মূর্খতা বৈ কিছুই নয়। [ফাতাওয়া মাহমূদিয়া:২/৩১৭]

قال ابو رفاعة انتهيت الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يخطب قال فقلت يا رسول الله رجل غريب جاء يسئل عن دينه لا يدري مادينه قال فاقبل علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وترك الخطبة حتى انتهى الي فأتي بكرسي حسبت قوائمه حديدا, قال فقعد عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل يعلمني مما علمه الله ثم اتى خطبة فاتم اخرها . [رواه مسلم:1/287]

তাছাড়া আগলাতুল অওয়ামের ৭৩নং পৃষ্ঠায় রয়েছে যে, নামাযের পরেও যদি খুতবার অর্থ শুনানো হয়, তাহলেও মিম্বর থেকে সরে যাওয়া উত্তম। কারণ, যাতে খুতবা ড়ার সাদৃশ্য থেকে দুরে থাকে। অথচ জুমু‘আর খুতব পড়া হয় নামাযের পূর্বে। নামাযের পরে পড়া হয় না। আর নামযের পরে কোন খুতবার সাদৃশ্য না হয়ে যায়। তাহলে নামাযের পূর্বে ওয়ায-নসীহত করার সময়তো মিম্বার থেকে সরে যাওয়া শুধু উত্তমই নয়; বরং জরুরী বুঝা যায়। কারণ, ঐ সময়তো খুতবা পাঠের সাদৃশ্য হয়ে যায়। তাই চেয়ারে বসে বা মিম্বর ছেড়ে দাঁড়িয়ে ওয়ায-নসীহত করা চাই। আর এটাই উত্তম ও সুন্নাত। [প্রমাণ: মুসলিম শরীফ:১/২৮৭, ফতাওয়া মাহমুদিয়া:২/৩১৭, আগলাতুল আওয়াম:৭৩]

এ কারণে হযরত উমর ফারূক রাযি. এর যামানায় তার নির্দেশে যখন খুতবার পূর্বে ভিন্নভাবে বয়ানের নিয়ম চালু হয়, তখন খুতবার পূর্বে হযরত আবু হুরাইর ও তামীমে দারী রাযি. বয়ান করতেন। অবশ্য উভয়-ই মিম্বার থেকে দূরে থেকে বয়ান করতেন। তাদের কেউ উক্ত বয়ান মিম্বরে বসে করতেন না। তারপর যখন হযরত উমর ফারূক রাযি. জুমু‘আর খুতবা দেয়ার জন্য উপস্থিত হতেন, তখন তারা বয়ান বন্ধ করে দিতেন।

উল্লেখ্য মিম্বারে বসে বয়ন না করার যে হুকুম বর্ণনা করা হলো, তা শুধু জুমু‘আর সময়ের ব্যাপারে খাছ। জুমু‘আ ব্যতীত অন্য যে কোন সময় মিম্বরে বসে বয়ান করা যায় এতে কোন অসুবিধা নাই। [প্রমাণঃ প্রাগুক্ত]

খুৎবার পূর্বে মিম্বরে বসে বয়ান করা | ইসলামী যিন্দেগী