ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা ইত্যাদি

প্রশ্ন

(ক) ক্রিকেট খেলা, ফুটবল খেলা, ভলিবল খেলা ও লুডু খেলা জায়িয আছে কি?

(খ) টিভিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা বা ফুটবল খেলা দেখার কি হুকুম?

(গ) খেলার মধ্যে মুসলমান বা অমুসলিম কোন দলকে সমর্থন করা বা তারা বিজয়ী হলে আনন্দ অনুভব করার হুকুম কি?

উত্তর

প্রচলিত খেলাধুলার মধ্যে ক্রিকেট ফুটবল ও ভলিবল প্রতিটি খেলাই শরী‘আতের দৃষ্টিতে নাজায়িয ও হারাম। কারণ, এর মধ্যে শরী‘আতের দৃষ্টিতে অনেক নাজায়িয দিক আছে। তবে নাজায়িয বিষয়গুলো বর্জনের শর্তাবলী স্বাপেক্ষে ফুটবল, ক্রিকেট ও ভলিবল খেলা জায়িয আছে। শর্তগুলো নিম্মে প্রদত্ত হলঃ

(ক) হার-জিতের উদ্দেশ্যে খেলা যাবে না। উদ্দেশ্য একমাত্র শরীর চর্চা ও আন্তরিক প্রশান্তি হতে হবে। তাছাড়া জয়ী পক্ষকে যদি পরাজিত পক্ষ থেকে কোন মাল বা অর্থ দেওয়ার শর্ত থাকে তাহলে তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আর জুয়া হল জঘন্য গুনাহ ও হারাম। [প্রমাণঃ মা’আরিফুল কুরআন ৭:২৫]

(খ) শর‘ঈ সতরের সীমারেখা লংঘন করা যাবে না।

(গ) লক্ষ্য রাখতে হবে যেন এর দ্বারা নামায, জামা’আত বা শরী‘আতের অন্য কোন হুকুম পালনে ত্রুটি না হয়।

উল্লেখিত শর্ত পাওয়া গেলে এগুলো খেলাতে কোন অসুবিধা নেই। বিশেষতঃ এসবে যথেষ্ট শারীরিক ব্যয়ামও হয়, আর শরীর ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখা শরী‘আতের নির্দেশ। [প্রমাণঃ মা’আরিফুল কুরআন ৭:২৩]

শর্ত পালন না করলে এসবের প্রত্যেকটিই নাজায়িয ও হারাম হবে। আর লুডু খেলার মধ্যে যেহেতু শারীরিক কোন পরিশ্রমই হয় না, বরং তা সময় অপচয়ের আক্তা মাধ্যম মাত্র, কাজেই এটা মাকরূহ হবে।

(খ) বিশ্বকাপ ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা টিভিতে দেখা জায়িয নয়। প্রতমতঃ টিভিতে কোন প্রোগ্রাম দেখাই জায়িয নয়। এমনকি ইসলামী কোন প্রোগ্রাম ও বর্তমানে টিভিতে দেখা হারাম। আর ফুটবল তো এজন্য জায়িয নয় যে, এটাতে ফরয সতরের প্রকাশ্য লংঘন হয়। যা করাও হারাম, দেখাও হারাম। আর ক্রিকেটের বেলায় যদিও সতর ঠিক থাকে, কিন্তু এখানে জয়-পরাজয় মুখ্য থাকার কারণে তা হারাম। আর এটা দেখার মাধ্যমে প্রকারান্তরে ঐ সকল হারামের প্রতি মৌন ও পরোক্ষ সমর্থন ব্যক্ত করা হয়। উপরন্তু এতে প্রচুর সময় ও অর্থের অপচয় হয়। যা একজন মু’মিনের জন্য কিছুতেই বৈধ নয়।

সর্বোপরি এসব খেলায় যেহেতু দু’টি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ থাকে, তাই দর্শক মাত্রই যে কোন পক্ষের সমর্থন করে থাকে এবং তার বিজয় কামনা করে থাকে। যেটা ঐ দল বা খেলোয়াড়ের সাথে মুহাব্বতের সুত্র থেকেই হয়ে থাকে। অথচ তা সম্পূর্ন নিষেধ।

কেননা, এসব খেলার খেলোয়াড়রা প্রায় প্রত্যেকেই চরম পর্যায়ের কাফির বা ফাসিক। যা তাদের ব্যক্তি জীবনের দিকে লক্ষ করলেই বুঝা যায়। সুতরাং, তাদের খেলা দেখা মানে তাদের সাথে মুহাব্বতেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটানো, যা নাজায়িয। প্রিয়নবী ﷺ বলেন, “ মানুষের হাশর তার সাথেই হবে যাকে সে মুহাব্বত করে”। (মিশকাত শরীফ,২:৪২৬)

তাছাড়া দিন-রাতভর এগুলো দেখতে গিয়ে দুনিয়াবী জরুরী কাজ নষ্ট হয়ে যায়। এমন কি অনেকের নামায পর্যন্ত কাযা হয়ে যায়। যা পৃথক গুনাহের কাজ।

(গ) খেলার ভিতর মুসলিম বা অমুসলিম কোন দলকে সমর্থন করা যাবে না। অতএব, তারা জয়ী হলে আনন্দ করার তো প্রশ্নই আসে না। কেননা, জয়-পরাজয় উদ্দেশ্য করে কোন খেলাই জায়িয নয়। অথচ এসব খেলায় তা-ই হয়। সুতরাং, কোন দলকে সমর্থন করার প্রশ্নই উঠে না। [ফাতাওয়া শামী ৫:২৭৫, কানযুল উম্মাল ১৪:৪১৪]