ধূমপানের শর‘ঈ বিধান
প্রশ্ন
হুক্কা ও বিড়ি-সিগারেট খাওয়া অর্থাৎ ধূমপান করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে কি ধরনের গুনাহ?
উত্তর
হুক্কা, বিড়ি, সিগারেটে যদি নাপাকী বা নেশা জাতীয় কোন জিনিস থাকে, তাহলে তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। আর যদি এমন না হয়, তাহলেও তা পান করা মাররূহ হবে। যদিও তা পাক বস্তু দ্বারা তৈরি হোক না কেন। কেননা, পাক জিনিস দ্বারা তৈরি বস্তুও যদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়, তাহলে তা খাওয়া নিষেধ বা মাকরূহ হয়ে যায়। যেমন, মাটি পাক হওয়া সত্ত্বেও তা খাওয়া নাজায়িয। কেননা, তাতে শরীরের মারাত্নক ক্ষতি হয়। বিড়ি-সিগারেট পান করার দ্বারা শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। তন্মধ্যে কতেক এমন, যা মানুষকে মৃত্যু পর্যন্ত ঠেলে দেয়। যেমন, ক্যান্সার ও যক্ষা ইত্যাদি।
এমনকি ডাক্তারদের অভিমত অনুসারে ধূমপায়ী ব্যক্তির যে ক্ষতি হয় তার ৩০ ভাগ ক্ষতি হয় তার পার্শ্ববর্তীদের, যারা ধূমপায়ী নয়। আর মুখে, শরীরে এমনকি তার কাপড়ে পর্যন্ত এমন দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, যা অন্যের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর অন্যকে কষ্ট দেয়া হারাম এবং দুর্গন্ধযুক্ত জিনিস নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তাছাড়া এর দ্বারা অনেক অর্থের ও অপব্যয় হয়, যা শরী‘আতে নিষেধ। এসব অসুবিধার কারণে ধূমপান বর্জনীয় এবং এটা ছেড়ে দেয়ার জন্য সদিচ্ছা যথেষ্ট। সুতরাং, যারা এ মুসীবতে লিপ্ত আছে, তারা আস্তে আস্তে কমাতে কমাতে একদম ছেড়ে দিবে এবং এর বদলে দরকার হলে পান খাওয়ার অভ্যাস করবে এবং আল্লাহর দরবারে তাওবা করবে। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া রাহীমিয়া ২:২৪২, মুসলিম শরীফ ১:২০৯]