বেগনা মহিলাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা
প্রশ্ন
দীনের কাজ মহিলা অঙ্গনে করতে গিয়ে কোন মহিলার সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং পিতার সামনে ইসলামী সম্পর্কের জন্য মেয়েকে কুবুল বা রাযী করানো হয়, তবে ঐ পুরুষটি কি ঐ মহিলার জন্য হালাল হয়ে যায়। অনুগ্রহপূর্বক আগামী সংখ্যায় উত্তর দিবেন, নতুবা ফিতনার সম্ভাবনা আছে।
উত্তর
নিজে দীনের উপর কায়েম থেকে দীনের মেহনত বা অন্যের কল্যাণ করতে হবে। দীনের আহকাম থেকে হটে গিয়ে দীনের মেহনত বা অন্যের উপকার করা জায়েয নেই। বিজ্ঞ ও পরহেযগার আলেমদের পরামর্শক্রমে সম্পূর্ণ শর‘ঈ পদ্ধতিতে মহিলা অঙ্গনে দীনের কাজ করলে বেগানা মহিলার সাথে আন্তরিকতার সুযোগ আসত না। তাছাড়া দীনের কাজ করতে গিয়ে কোন হারাম কাজে জড়িত হলে তা হালাল হয়ে যায় না। সুতরাং, মহিলা অঙ্গনে দীনের কাজে করতে গিয়েও গায়রে মাহরাম (অর্থাৎ যাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে জায়েয নাই) মহিলার সাথে আন্তরিক সম্পর্ক হয়ে গেলে শরী‘আতের দৃষ্টিতে তা নাজায়েয এবং অন্তরের যিনার মধ্যে শামীল। যার জন্য উভয়কেই আল্লাহর দরবারে তাওবা করতে হবে।
শরী‘আতের একমাত্র বিবাহের দ্বারা মহিলা পুরুষের জন্য হালাল হয়। আর বিবাহের জন্য শর্ত হল দু জন মুসলমান পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলাকে স্বাক্ষী রেখে ছেলে-মেয়ের ইজাব ও কবুল হতে হবে। এবং স্বামী-স্ত্রীকে কি পরিমাণ মহর দিবে তা ঠিক করে নেওয়া চাই। বর্ণিত ঘটনায় তথা পিতার সামনে মেয়েকে কবুল বলানো বা রাযী করানোর ঘটনায় পিতাকে যদি একজন স্বাক্ষী ধরা হয়। তাহলে মাত্র একজন স্বাক্ষীর এবং স্ত্রীর কবুলের বর্ণনা আছে। কিন্তু অপর স্বাক্ষী ও স্বামীর ইজাবের বর্ণনা নাই। বাস্তবে যদি এইভাবে হয়ে থাকে তাহলে এটাকে বিবাহ বলা যায় না এবং এর দ্বারা ঐ মেয়েহালাল হবে না। [প্রমাণঃ আহসানুল ফাতাওয়া, ৮:৩৯ #হেদায়া ২:৩০৬]