মেয়েলোকের নাক-কান ছিদ্র করণ

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব২ জানুয়ারি, ২০২৬মহিলাদের বিষয়, সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

মেয়েলোকের নাক-কান ছিদ্র করা শরী‘আতের জায়িয হবে কি? কখন থেকে এর প্রচলন শুরু হয়? বর্তমানে কিছু সংখ্যক যুবককেও কান-ছিদ্র করে দুল পরতে দেখা যায়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এর হুকুম কি?

উত্তর

অলংকার পরিধানের উদ্দেশ্য মহিলাদের নাক-কান ছিদ্র করা জায়িয। তবে নাক ছিদ্র করার ব্যাপারে ফকীহগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে বলে নাক ছিদ্র করা না করাই উত্তম।

কান ছিদ্র করার প্রচলন হযরত ইবরাহীম আ. এর যুগ থেকেই শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিবি হাজেরাকে যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত ইসমাঈল আ. এর নূর তার থেকে প্রকাশ পাওয়ার সুসংবাদ প্রদান করা হল, তখন বিবি সারা কসম করে বললেন, নিশ্চয় আমি হাজেরার কান ছিদ্র করে দিব। এরপর বিবি সারা হযরত ইবরাহীম আ. এর নির্দেশে কসম পূর্ণ করার উদ্দেশ্য হাজেরার কান ছিদ্র করে দেন। [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১:১৪৫]

অনুরূপভাবে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর যুগেই মহিলা সাহাবীগণের মাঝে কান ছিদ্র করার প্রচলন ছিল। বুখারী শরীফের একটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে, একদা নবীয়ে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামাযের পর মহিলা সাহাবীগণের মজলিসে কিছু নসীহত করেন এবং দান-খয়রাতের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন। তখন তার কানের অলংকার ও গলার হার খুলে দেয়া শুরু করেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে অলংকার ব্যবহার করার জন্য নাক-কান ছিদ্র করা জায়িয।

তবে পুরুষের জন্য নাক-কান ছিদ্র করে অলংকার পরিধান করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয। কেননা, তিরমিযী শরীফের এক বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষকে মহিলা সাদৃশ্য অবলম্বন করা ও মহিলাদের জন্য পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করার ব্যাপারে লা’নত করেছেন। তাই পুরুষদের জন্য এগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা অপরিহার্য।

উল্লেখ্য যে, অলংকার পরিহিত অবস্থায় মহিলাদের ফরজ গোসলের সময় নাকা-কানের এবং উযুতে নাক ফুলের ছিদ্রপথে পানি পৌঁছানোর ব্যাপারে অত্যন্ত সর্তকতা অলবম্বন করা উচিত। [প্রমাণঃ বুখারী শরীফ২:৮৭৪; তিরমিযী শরীফ২:১০৬; ফাতাওয়ামাহমূদীয়া৬: ৩৬২; বেহেশতি জেওর ১:৪৭]