থানভী রহ. শিবলী নুমানী রহ. কে কাফের বলা
প্রশ্ন
মুহতারাম মুফতী সাহেব! আমাকে জনৈক বেরলভি আলেম আল্লামা থানবি রহ. সম্পর্কে অভিযোগ তুলে বলেছেন, তিনি নাকি আল্লামা শিবলী নোমানী রহ. কে তাকফির করেছেন। বিস্তারিত নিচের স্কিনশটে দেখুন। আমার নিকট তার এ অভিযোগ সত্য মনে হচ্ছে না। তাই প্রকৃত সত্য জানতে চাই। ওয়াস সালাম।
সাইফুল ইসলাম রুবায়েত: আরেকটি ব্যাপার জানেন কি না? আশরাফ আলী থানবী শিবলী নুমানী ও হামিদুদ্দীন ফারাহীকে কাফের ফতোয়া দিয়েছিলেন। থানবীর ছাত্র ও খলীফা আব্দুল মজিদ দারিয়াবাদী তার “হাকীমুল উম্মত” কিতাবে একটি চিঠির কথা লিখেছেন। যা তিনি মৌং আমিন আহমেদ ইসলাহী হতে গ্রহণ করেন। মৌং ইসলাহী ছিলেন মৌং শিবলী নুমানী ও হামিদুদ্দীন ফারাহীর প্রবর্তিত আজমগড়ের মাদরাসাতুল ইসলাহ’র ইনচার্জ। ঐ চিঠিতে লেখা ছিল:
মাওলানা (আশরাফ আলী) থানবীর ফতোয়া দিয়েছেন যে, মাওলানা শিবলী নুমানী ও মাওলানা হামিদুদ্দীন ফারাহী কাফের। আর যেহেতু এ দু’জন মাদরাসাতুল ইসলাহ চালু করেছেন এবং এর ব্যবস্থাপনা করেছেন, সেহেতু মাদরাসাতুল ইসলাহ হচ্ছে, (আসলে) মাসরাতুল কুফর ও জিন্দিকা! যেসব আলেম এ মাদরাসা উন্নয়ন করছেন এবং যারা এতে অংশ নিচ্ছেন, তারা সবাই ধর্ম থেকে খারিজ (মুলহিদ ও বেদ্বীন)!”। (হাকীমুল উম্মত, পৃঃ ৪৭৫)
এ চিঠি পেয়ে মৌং দারিয়াবাদী থানবীকে লিখেন: ঐ দু’ হযরত কিকরে কাফের হতে পারেন, যেখানে তারা তাহাজ্জুদগুযার এবং তাদের যুহুদ ও তাকওয়া প্রসিদ্ধ?
জবাবে থানবী লিখেন: এসব তো আমল। আকীদা এসব থেকে আলাদা। বদ আমল ভালো আকীদায় থাকতে পারে এবং নেক আমল খারাপ আকীদায় থাকতে পারে। (প্রাগুক্ত-৪৭৬)।
উত্তর
একথা ঠিক যে, হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহ. এবং শিব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. সহ আকাবির অনেক উলামা মাওলানা শিবলী নুমানী রহ. ও হামিদুদ্দীন ফারাহী মারহুমের বিষয়ে কুফরের ফাতওয়া দিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে বাতিল আকীদা থেকে বারাআত এবং হক আকীদার পক্ষে থাকার ইশতিহারও তারা প্রকাশ করেন। এ ইশতিহার মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. এর খলীফা মাওলানা সুলাইমান নদবী রহ. প্রকাশ করেন।
তাছাড়া শাইখুল ইসলাম হুসাইন মাদানী রহ. মাদরাসাতুল ইসলাহ সফর করে কুফর ফাতওয়া ইবারত দেখে। আগপর মিলিয়ে বলেন, এর দ্বারা কুফর হবে না। সুতরাং তাদের কাফের বলা মুনাসিব নয়। হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ. এর উক্ত বক্তব্যের পর থানবী রহ. ও অন্যান্যরা তাদের ফাতওয়া থেকে রুজু করেন।