উলামা কর্তৃক অনুমোদিত হালাল গোশত

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ জানুয়ারি, ২০২৬কুরবানী ও আক্বিকা

প্রশ্ন

সিঙ্গাপুরে হালাল প্রাণীর গোশত পাওয়া খুবই দুষ্কর। এদিকে এখানকার উলামায়ে কিরাম কর্তৃক অনুমোদিত হালাল বলে প্রচলিত বাজার যেসব হাঁস-মুরগীর গোশত পাওয়া যায়, সেগুলোর বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া নিম্নরূপঃ

হাঁস-মুরগী যবেহ করার আগে সেগুলোর গায়ে বৈদ্যুতিক তারের শক দেয়া হয়। আর যবেহ করার পর পেট কেটে নাড়ি-ভুড়ি না বের করেই পশম ছাড়ানোর জন্য গরম পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। পানি প্রথম অবস্থায় পাক থাকলেও পরে আর তা পাক থাকার কথা নয়। কেননা, যবেহ করার সময় অনেক হাঁস-মুরগীই পায়খানা করে দেয়। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবেই ফেলা হয়। উল্লেখ্য যে, এ হাঁস-মুরগীরগুলো মুসলমানরাই যবেহ করে থাকেন। সুতরাং এসব হাস-মুরগীর গোশত খাওয়া জায়িয জবেহ কি-না?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত হাঁস-মুরগীগুলোকে যবেহ করার আগে বৈদ্যুতিক শক দেয়ার ফলে যদি এগুলোর রক্ত জমে যায় এবং মারা যায় অতঃপর সেগুলো যবেহ করা হয়, তাহলে কোনভাবেই এসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল হবে না।

আর যদি এসব হাঁস-মুরগীরকে দুর্বল করার জন্য বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়। অতঃপর সেগুলো শর‘ঈ বিধান মুতাবিক যবেহ করা হয় এবং যবেহ করার পর সেগুলো থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়। তাহলে এসব হাঁস মুরগীর গোশত খাওয়া হারাম হবে না।

আর যদি হাঁস-মুরগী যবেহ করার পর পর পালক ইত্যাদি পরিষ্কার করার জন্য পেটের নাড়ি-ভুড়ি বা নাপাক বর্জ্য সহ গরম পানিতে ফেলা হয়, এমতাবস্থায় তার এর দু’টি রূপ হতে পারে। প্রথমতঃ উক্ত গরম পানি যদি এত গরম হয় যে, আগুনের উত্তাপে তা টকবগ করতে থাকে এবং সেই পানিতে যবেহকৃত হাঁস-মুরগী এত সময় রাখা হয়, যার ফলে গোশতের মাঝেও পেটের অপবিত্র বর্জ্যের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়, তাহলে সেগুলোর গোশত খাওয়া হারাম হবে।

দ্বিতীয়তঃ পানি যদি সাধারণ গরম হয়, অথবা বেশী মাত্রায় গরম পানিতে অল্প সময় রাখা হয়। যার দ্বারা কেবলমাত্র চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছে গোশতের মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না বা নাপাক পানি গোশতের ভিতর পৌঁছে না, তাহলে উক্ত হাঁস-মুরগীকে তিন বার ধৌত করে তা খাওয়া জায়িয হবে।

[সূরা মায়িদাহঃ ৩, মুসলিম শরীফ ২:১৫৬; মারাফিল ফালাহ ১২৮, ফাতাওয়া শামী ১:৩৩৪,জাওয়াহিরুল ফিকহ ২:৩৬৭, জাদীদ ফিকহী মাসাইল ২:৪১৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১:৮৫]

উলামা কর্তৃক অনুমোদিত হালাল গোশত | ইসলামী যিন্দেগী