উসীলা দিয়ে দু‘আ করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৪ জানুয়ারি, ২০২৬বিবিধ, দু‘আ দুরূদ ও যিকির

প্রশ্ন

দু‘আ করার সময় কারো উসীলা দিয়ে দু‘আ করা যায় কি? যেমন যদি বলা হয়, “হে আল্লাহ! বড় পীরের উসীলায় আমার দু‘আ কবুল করুন। আথবা বলা হয়, নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উসীলায় আমার দু‘আ কবুল করুন।

অনেকে নবী-ওলী ও বুযুর্গের উসীলা নিয়ে দু‘আ করার বিপক্ষে আয়াত পেশ করেন।

قُلۡ لَّاۤ اَمۡلِکُ لِنَفۡسِیۡ نَفۡعًا وَّلَا ضَرًّا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰہُ…… لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ 

“(হে নবী) বলুন, আমি আমার নফসের কোন উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখি না”। (সূরা আ’রাফ আয়াত-১৮৮)

এবং এ হাদীস পেশ করেন, “যখন তুমি কোন কিছু চাইবে আল্লাহর কাছে চাইবে। যখন কোন সাহায্য কামনা করবে, আল্লাহর নিকটই করবে”। (তিরমিযী শরীফ) এ সম্পর্কে শরী‘আতের ফায়সালা কি?

উত্তর

নবী-ওলীগনের উসীলা দিয়ে দু‘আ করা শরী‘আতে জায়িয আছে। এতে কোন অসুবিধা নেই। একবার হযরত উমর ফারুক রা. দুর্ভিক্ষের সময় হযরত আব্বাস রা.- এর উসীলা দিয়ে বৃষ্টির জন্য দু‘আ করেছিলেন। [খাইরুল ফাতাওয়া ১৯৭]

একটি হাদীসের মধ্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে একজন অন্ধ সাহাবীকে এভাবে দু‘আ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।

اللهم اني اسألك وا توجه اليك بنبيك محمد نبي الرحمة

[মা‘আরিফুল কুরআন ৩:১২৮, ইবনে মাযাহ ১০০ পৃষ্ঠা]

হযরত উমাউয়া রা. থেকে বর্ণিত যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ফকির ও মুহাজিরদের উসীলা দিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য দু‘আ করেছেন। এছাড়া আরো অনেক হাদীস দ্বারাও উসীলা দেয়ার কথা প্রমানিত আছে। [মিশকাত শরীফ ৪৩৯; খাইরুল ফাতাওয়া ১:১৯৩; আবু দাউদ শরীফ ৪৩৯]

এমনিভাবে হযরত আবু বকর বিন খতীব রহ. থেকে বর্নিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি হযরত ইমাম শাফেঈ রহ.-কে একথা বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, আমি হযরত ইমাম আবু হানিফা রহ.- এর উসীলা দিয়ে বরকত অর্জন করে থাকি। আমি তার কবর যিয়ারত করি, তার উসীলা দিয়ে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি। তারপরই আমার আশা পূর্ণ হয়। [খাইরুল ফাতাওয়া ১:১৯৪]

তবে বর্তমান ফিতনা-ফাসাদের যমানায় মানুষদের মধ্যে আকায়িদের ইলম না থাকায় অনেকে এমন এমন কথা বলে ফেলে, যাতে ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা থাকে। অনেক পীর-বুযুর্গকে সমস্যা সমাধানকারী বিশ্বাস করে। তাদের নিকট প্রার্থনা করে অনেকে বহক্কে আব্দুল কাদির জিলানী, বহক্কে খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী বলে দু‘আ করে থাকে। অথচ এভাবে দু‘আ করা নিষেধ। [প্রমাণঃ তারিখে খতীব ১:১২৩]