কাদিয়ানিদের সাথে বিবাহ-শাদী
প্রশ্ন
কাদিয়ানিরা কি মুসলমান? যদি মুসলমান না হয়, তাহলে তাদের সাথে মুসলমানদের সন্তানদের বিয়ে-শাদী হয়ে থাকলে এখন কি করতে হবে ?
উত্তর
সারা পৃথিবীর আলেম, মুফতী, ইসলামী বুদ্ধিজীবি ও মুসলিম দেশের ইসলামী আদালতের রায়ঃ কাদিয়ানী সম্প্রদায় রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক ‘খাতামুন্নাবিয়্যিন’ শব্দের ব্যাখ্যা অস্বীকার করার দরুন এবং তাদের স্বতন্ত্র আক্বীদা ও বিশ্বাসের কারণে কাফির। তারা আমাদের নবীকে ﷺ শেষ নবী মানে না। তারা খাতামুন্নাবিয়্যিন শব্দের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে খতমে নবুওয়াত অস্বীকার করেছে আর এতটুকুই তাদের কাফির হওয়ার জন্য যথেষ্ট! তারা মুসলমানদের ঘরে-ঘরে গোপনে তাদের সে সব প্রচারপত্র বিলি করে তার মধ্যে সরলপ্রাণ মুসলমানদের ধোকা দেয়ার জন্য মদীনার মুনাফিকদের মত (যার বিস্তারিত বর্ণনা সূরা মুনাফিকুন এ এসেছে) কালেমা তাইয়্যিবা লিখে এবং উচ্চারণ করে এবং লিখে থাকে যে, আমরাও খাতামুন নাবিয়্যিন বিশ্বাস করি। এবং এতবেশী বিশ্বাস করি যে আলেমগন আমাদের বিশ্বাসের একশ ভাগের এক ভাগও বিশ্বাস করে না। যে বিশ্বাস করে না, তাকে কাফির মনে করি। এ কথা বলার পর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরক্ষণেই চতুরতার তার লেখার চতুরতার মধ্য দিয়ে আমাদের নবীর শেষ নবী হওয়াকে অস্বীকার করে এই বাহানায় যে, খাতামুন নাবিয়্যিন আমরা মানি কিন্তু এ ব্যাপারে মোল্লাদের অপব্যাখ্যা আমরা মানি না।
অথচ মাওলানা-মুফতী উক্ত শব্দের যে ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন, তা কখনো তাদের মনগড়া নয়, বরং কুরআনের ১০০ আয়াত এবং দুই শতাধিক সহীহ হাদীস এবং সাহাবাগণের রা. ইজমা দ্বারা তা প্রমাণিত।
সুতরাং মুসলমানদের সতর্ক থাকা উচিৎ। মুসলিম শব্দ দেখে ধোকা খাওয়া ঠিক নয় এবং মনে করা উচিত নয় যে, এরাও মুসলমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান যেমন ভিন্ন ভিন্ন ধর্মী, অমুসলিম, কাফির, তেমনিভাবে কাদিয়ানী মতবাদও ভিন্ন ধর্ম ও অমুসলিম জামাত। তারা তাদের ভন্ড নবী কর্তৃক ইংরেজ গভর্মেণ্ট-এর তরফদারী করে তাদের বিরূদ্ধে জিহাদ হারাম হওয়ার ফাতওয়া দেয়ার কারণে জিহাদ সম্পর্কীয় সমস্ত আয়াত ও হাদীস তারা অস্বীকার করেছে। যার একটি আয়াত অস্বীকার করলে কাফির হতে হয়।
সুতরাং, আহমদীয়া মুসলিম জামাত (কাদিয়ানীরা) নিশ্চিতভাবে কাফির। কোন মুসলমানের সাথে কাফিরদের বিবাহ শাদী যেমন কখনও জায়িয নয়, তেমনিভাবে কাদিয়ানীদের সাথেও বিবাহ জায়িয নয়, সম্পূর্ণ হারাম। যদি না জেনে কেউ তাদের সাথে বিবাহ-শাদী করে থাকে, বা বিবাহ দিয়ে থাকে তাহলে তা ভঙ্গ করে দিতে হবে এবং তাওবা করে নিতে হবে। নতুবা তাদের ঈমান থাকবে না। কাদিয়ানী কাফিররা নিজেদের বর্ণনায় ও লেখনীতে সাধারণতঃ নিজেদের কাদিয়ানী বলে উল্লেখ করে না। বরং ‘আহমদী মুসলিম জামাত’ বলে থাকে।
[প্রমাণঃ সূরা বাকারা ২, বাদাঃ ২/৩৩৭]