গীবত করা
প্রশ্ন
গীবত করা হরাম তা জানি কিন্তু শুনেছি কিছু গীবত করা জায়েজ তা যানাবেন। আর একটা প্রশ্ন হল আমি যদি ইসলামের অপব্যখ্যা করে (আহলে হাদীস), নবীর নামে ভুল হাদিস বলে এমন ব্যক্তির নাম নিয়ে Facebook, internet, বা সাধারন মানুষকে তাদের কথা তাদের অজান্তে বলতে পারব নাকি ?
উত্তর
৬ কারণে বা পরিস্থিতিতে গীবত করা জায়েজ আছে। যথা-
১- জুলুম থেকে নিচে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতে। এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে, যে একে প্রতিহত করতে পারবে।
২- খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।
৩- বিষয়টি সম্পর্কে শরয়ী সমাধান জানতে গীবত করে মূল বিষয় উপস্থাপন করা জায়েজ আছে। যেমন বলা যে, আমাকে অমুক ব্যক্তি আমার উপর জুলুম করেছে, তাই আমারও কি তাকে আঘাত করা জায়েজ আছে? ইত্যাদি
৪- সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনী ও দুনিয়াবী ধোঁকা ও খারাবী থেকে বাঁচাতে গীবত করা জায়েজ। যেমন সাক্ষ্য সম্পর্কে, হাদীস, আসার ও ইতিহাস বর্ণনাকারী সম্পর্কে, লেখক, বক্তা ইত্যাদি সম্পর্কে দোষ জনসম্মুখে বলে দেয়া, যেন তার ধোঁকা ও মিথ্যাচার থেকে মানুষ বাঁচতে পারে।
৫- প্রাকাশ্যে যদি কেউ শরীয়তগর্হিত করে, তাহলে তার খারাবী বর্ণনা করা এমন ব্যক্তির কাছে যারা এর দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে। যেমন কেউ প্রকাশ্যে মদ খায়, তাহলে মানুষের সামনে তার সরাসরি বদনাম করা জায়েজ আছে। যেন এমন খারাপ কাজ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না করে।
৬- কারো পরিচয় প্রকাশ করতে। যেমন কেউ কানা। তার পরিচয় দেয়া দরকার। কিন্তু নাম কেউ চিনতেছে না। কিন্তু কানা বলতেই সবাই চিনে ফেলে। তখন কানা বলা বাহ্যিক দৃষ্টিতে গীবত হলেও এটা বলা জায়েজ আছে। এতে গীবতের গোনাহ হবে না। {তাফসীরে রুহুল মাআনী- ১৪/২৪২, সূরা হুজরাত-১২}
উপরোক্ত ৬ প্রকারের মাঝে ৪র্থ প্রকার অনুপাতে যে সমস্ত ব্যক্তিরা ইসলামের অপব্যাখ্যা করে, ইসলামের নামে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করে মানুষের ঈমান ও আমলকে নষ্ট করে, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করে এমন সব ব্যক্তিদের ক্ষতি থেকে জাতিকে সতর্ক করার জন্য তাদের নাম নিয়ে তাদের প্রকৃত চিত্র উম্মতের পেশ করা হারাম ও নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভূক্ত নয়। বরং এটি দ্বীনের একটি কাজ। সেই সাথে সওয়াবের কাজও বটে।
সেই হিসেবে যে সমস্ত আহলে হাদীস নামধারী লা-মাযহাবী শায়েখরা উম্মতের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করছে, হাদীসের নামে জালিয়াতি ও প্রতারণা করে উম্মতের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করছে, তাদের নাম উল্লেখ করে তাদের প্রতারণা ও ধোঁকা তুলে ধরা অবশ্যই নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। বরং দ্বীনের একটি জরুরী কাজ হিসেবে সওয়াবের অংশিদার হবেন ইনশাআল্লাহ।