তাযকিয়ার গুরুত্ব

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৬ জানুয়ারি, ২০২৬আত্মশুদ্ধি, বিবিধ

প্রশ্ন

শরী‘আতের দৃষ্টিতে আত্নশুদ্ধির হুকুম কি? আত্নশুদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট শাইখের সাথে সম্পর্ক রাখা জরুরী কিনা? হাওয়ালা সহ জানতে চাই।

উত্তর

শরী‘আতে অন্যান্য আহকাম যথা, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, ইত্যাদি। (নেসাব পরিমাণ মালের মালিকানা থাকার শর্তে) যেমন, প্রত্যেক আক্কেল বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরযে আইন তথা আবশ্য পালনীয়, তদ্রুপ অন্তরে দশটি অর্থাৎ (১) লোভ, (২) অহেতুক কথা বলার আগ্রহ, (৩) অযথা ক্রোধ, (৪) হিংসা বা পরশ্রীকাতরতা, (৫) কৃপণতা, (৬) পদের মোহ তথা বড়ত্ব কামনা (৭) দুনিয়ার মোহ (৮) তাকাব্বুরি বা অহংকার, (৯) খোদপসন্দী তথা আত্নাস্লাষা, (১০) রিয়া তথা প্রদর্শীনী ও লৌকিকতা, এর চিকিৎসা করানোর মাধ্যমে সমস্ত জাহেরী গুনাহ তরক করা এবং অন্তরের দশটি ভাল গুন তথা (১) তাওবা, (২) খোদাভীতি, (৩) যুহদ বা দুনিয়ার প্রতি অনিহা (৪) সবর বা ধৈর্যশীলতা, (৫) শুকর বা কৃতজ্ঞতা, (৬) ইখলাস তথা নেক কাজে খালেস নিয়ত বা একনিষ্ঠতা, (৭) তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর উপর পূর্ন ভরসা, মুহাব্বত বা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের ভালবাসা (৯) তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টু, (১০) মৃত্যু চিন্তা অর্জন করা এবং সর্বক্ষণ আল্লাহর ধ্যান ও স্মরণ রাখার সিফাত হাসিল করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর উপর ফরযে আইন। আর এরই নাম হচ্ছে তাযকিয়া বা আত্নশুদ্ধি। এ আত্নশুদ্ধি এমনই এক ফরয দায়িত্ব যে, আল্লাহ তা‘আলা এর গুরুত্ব বুঝাতে কুরআনে পাকের সূরা আশ-শামশে ১১ বার কসম খেয়ে এই আত্নশুদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন। যেই কসম অন্য কোন বিষয় বর্ণনার ক্ষেত্রে এতোবার খাওয়া কুরআনে অন্য কোথাও নেই। তামাম আম্বিয়ায়ে কেরামের প্রধানতঃ যে চারটি দায়িত্ব ছিল তন্মধ্যে অন্যতম একটি হল আত্নার পরিশুদ্ধি।

আর কুরআনের অনেক আয়াত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অগণিত বানী ও আমল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীনসহ সকল যুগের আউলিয়ায়ে কিরামের আমল ও বাস্তব অভিজ্ঞতা দ্বারা একথা স্বীকৃতি যে, আত্নশুদ্ধি তথা আত্নার রোগের চিকিৎসার জন্য এমন কোন শাইখের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক রাখা জরুরী যিনি অন্য শাইখের সুহবতে থেকে নিজের আত্নার পরিশুদ্ধি করেছেন। এ ক্ষেত্রে উত্তম হল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শাইখের দারস্ত না হয়ে এমন কোন একজনকে নির্দিষ্টকরে নেওয়া, যার সাথে মনের অধিকতর মিল আছে, এবং যার প্রতি মনের আকর্ষণ বেশী যদিও তিনি তত প্রসিদ্ধ বা খ্যাতি সম্পন্ন না হন।

উল্লেখ্য, আত্নশুদ্ধির জন্য কারো সাথে ইসলাহী সম্পর্ক রাখা জরুরী বটে যাকে বাইআতে হাকীকী বলে তবে কোন শাইখের হাতে হাত দিয়ে বাই‘আত হওয়া বা তার মুরীদ হওয়া যাকে যাহেরী বাই‘আত বলে এটা জরুরী নয়। বরং এটা মুস্তাহাব ও বরকতের কাজ।

[প্রমাণঃ সূরা তাওবা ১১৯, আনআম-১২০, বাকারা-১২৯, সূরা আশ-শামস-৭-৯, ফাতাওয়ায়ে শামী-১/৪৩, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/১৩৯, মাহমূদিয়া-১৫/৮৮]

তাযকিয়ার গুরুত্ব | ইসলামী যিন্দেগী