মাতা-পিতার ঋণ পরিশোধ
প্রশ্ন
মাতা-পিতার ঋণ, সন্তানের পরিশোধ করা সম্ভব কি-না! যেমন, মা সন্তানকে দুধ পান করিয়েছেন বা লালন-পালন করেছেন। তেমনিভাবে সন্তানের প্রতি যদি মাতা-পিতা নারাজ থাকেন তাহলে সন্তানের করণীয় কি?
উত্তর
আল্লাহ তা‘আলা জম্মগত ভাবেই সন্তানের প্রতি মাতা পিতার স্নেহ-মমতা, মুহাব্বত ও ভালবাসা ঢেলে দিয়েছেন। তাই তো মাতা পিতা ছোট বেলা থেকেই কত কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে লালন-পালন করেন। সুতরাং সন্তানের জন্যও তাদের খিতমত করা এবং তাদের হক আদায় করা কর্তব্য। কিন্তু কোন মাতা পিতা সন্তানের উপর অনর্থক অসন্তুষ্টি হতে পারেন না। আর সন্তানকে ছোট বেলায় দুধ পান করানোর ঋণ পরিশোধ করার কথা কোন মা বলতে পারেন না। যদি কোন মা এমন বলেন তখন বুঝা যাবে যে, সন্তানের পক্ষ থেকে অবশ্যই তিনি কোন কষ্ট পেয়েছেন অথবা সন্তান তাদের হক্ব নষ্ট করেছে, তাই তারা এ সমস্ত কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যথায় কোন মা এমন কথা বলতে পারেন না। সুতরাং, এরূপ হয়ে থাকলে তাদের অসন্তুষ্টির মূল কারণ চিহ্নিত করে যদি তা শরী‘আত সম্মত হয়, তাহলে অবশ্যই তা আদায় করে পিতা মাতাকে রাজী করে নেয়া জরুরী। আর যদি কোন পিতা মাতা তাদের স্বল্প বুদ্ধির কারণে এ ধরণের দাবী করে থাকে তাহলে সন্তানের উপর তাদের খিদমত করা আর তাদের হকসমূহ আদায় করা ছাড়া আর কোন কর্তব্য নেই। নিম্মে তাদের জীবিত থাকা কালীন হক সমূহ উল্লেখ্য করা হল, সেগুলো পালন করতে থাকবেন। তাদের জীবিতাবস্থার হকসমূহ নিম্মরূপঃ
(১) মাতা-পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা। (২) তাদের প্রতি মুহাব্বত ও ভালবাসা রাখা। (৩) তাদের আনুগত হওয়া। (৪) দাদের সেবা-যত্ন করা। (৫) তাদের প্রয়োজন মিটানো। (৬) তাদের আরামের ফিকির করা। (৭) দূরে থাকলে মাঝে মধ্যে সাক্ষাৎ করা।
মারা গেলে তখনও তাদের সাতটি হক আছে, যা নিম্নরূপঃ
(১) তাদের জন্য মাগফিরাতের দু‘আ করা। (২) নেক কাজ করে তাদের জন্য সাওয়াব রিসানী করা। (৩) পিতা-মাতার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা। (৪) তাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। (৫) তাদের ঋণ বা আমানত পরিশোধ করা। (৬) তাদের বৈধ অসিয়ত পূরণ করা। (৭) মাঝে মধ্যে তাদের কবর যিয়ারত করা। [প্রমাণঃ সূরা বনী ইসরাঈল ২৩, # সূরা লোকমান ১৪, # মিশকাত শরীফ ২:৪১৮]