মুনাসাবাতের উদ্দেশ্য
প্রশ্ন
ইসলাহী সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে বলা হয় যে, যার সাথে মুনাসাবাত হয়। তার সাথেই ইসলাহী সম্পর্ক রাখা বাঞ্ছনীয়, প্রশ্ন হল, এই মুনাসাবাত দ্বারা উদ্দেশ্য কি? একটু ব্যাখ্যা সহ জানতে চাই।
উত্তর
আত্নশুদ্ধি–আল্লাহওয়ালাদের সুহবাত বা তাদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করা ব্যতীত অর্জন হয় না। তবে শর্ত এই যে পীর বা শাইখের সাথে মুরীদের আন্তরিক মুনাসাবাত (মনের মিল) থাকতে হবে। তা না হলে ফায়দা কম হয়। হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন যে, পীর যত বড়ই হোক না কেন, মুনাসাবাত (মনের মিল) না থাকলে তাঁর দ্বারা বিন্দুমাত্রও ফায়দা হবে না। তাই কোন শাইখের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগেই পরস্পরের মধ্যে মুনাসাবাত আছে কি-না তা ভালভাবে যাচাই করে নিতে হবে।
আর শাইখের সাথে মুনাসাবাত হওয়ার অর্থ হল, তার সাথে মুরীদের এমন আন্তরিকতাও আনুগত্যের সম্পর্ক হওয়া যার দ্বারা শাইখের যে কোন কথা বিনা দ্বিধায় মানতে প্রস্তুত থাকে। এবং শাইখের প্রতি এমন আস্থাশীল হওয়া যে, শাইখের কোন কথা বা কাজের প্রতি বিরুপ ধারণা সৃষ্টি না হয়। বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা দ্বারা এমনটি হলেও সে নিজের আকল বুদ্ধি দ্বারা সেটা রহিত করতে সক্ষম হয়, এবং মন কে বলে যে, আমার শাইখতো ফেরেশতা নন বরং তিনি একজন মানুষ। সুতরাং কোন উযর বা বেখেয়ালিতে এমনটি হওয়া অসম্ভব নয়। কোন মানুষই তো ভুল ভ্রান্তির উর্ধেব নয়। তাছাড়া শাইখের ব্যাপারে প্রবল ধারণা থাকা যে, এ শাইখের মাধ্যমেই আমার বাতেনী রোগের চিকিৎসা যথাযতভাবে হবে। কোন কামিল পীরের সান্নিধ্য কিছু দিন যাতায়াত করার দ্বারা যদি মনে উপরোক্ত ভাব জন্ম নেয়, তাহলে বুঝতে হবে যে, সে পীরের সাথে যাতায়াতকারীর মুনাসাবাত রয়েছে। যাতায়াতকারীর জন্যে সে পীরের নিকটই তাযকিয়া (আত্নশুদ্ধি) করানো উচিত। যদিও পীর তত প্রসিদ্ধ বা কাশফ-কারামতের অধিকারী না হন। দেখা যায় অনেকের বড় ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা হয় না অথচ সাধারন ডাক্তার দ্বারা রোগ ভাল হয়ে যায়। সুতরাং শাইখ বড় ছোট না দেখে মুনাসাবাত বা মনের আকর্ষণ আছে কিনা এটা দেখা জরুরী। [প্রমাণঃ মিশকাত শরীফ ২/৪২৫, ৪২৭, মিরকাত ৯/২৪৬]