তালাত দাতা স্ত্রী

আহলে হক মিডিয়া৩ আগস্ট, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

আমার নাম আজিম। আমি মির্জাপুর থেকে।একটি জরুরি মাসয়ালা জানাতে চাই..?

আমার এক বন্ধু বিবাহ করে ০৯/০৩/২০১৩ ইং তারিখে বাবা-মাকে না জানিয়ে ১লক্ষ টাকা দেনমহর ধার্য্য করে। সেখানে উপস্থিত ছিল বর- কনে ব্যাতিত ১জন ছেলে ১জন মেয়ে এবং যে কাজী বিবাহ পড়িয়াছে সে কাজী।১০/০৩/২০১৩ ইং তারিখে এফিডেভিট করা হয় (লোক মাধ্যেমে তাদের অনুপস্থিতিতে)। যেহেতু ২জনই ছাত্র সে কারনে যে যার বাড়ী চলে যায়।পরবর্তীতে ২০/০৩/২০১৩ ইং তারিখে ২ জন সহপাঠী স্বাক্ষী এবং ১ জন সহপাঠীকে উকিল বানিয়ে কাবিন নামা করা হয় (উল্লেখ্য যে কাবিন নামায় মেয়ের স্বাক্ষর ০৯/০৩/২০১৩ ইং তারিখেই নেওয়া হয়েছিল।

যেহেতু বিষয়টি গোপন ছিল তাই ১৮/০৭/২০১৪ ইং তারিখে ছেলে-মেয়ের পরিবার তা জেনে যায়। এ পর্যায়ে মেয়ের পরিবার বিষয়টি মিমাংসায় না এসে ছেলেটিকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। মেয়েটি ছেলেটিকে তালাক না দিয়ে গোপনে আত্মহত্যার জন্য বিষপান করে। হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যেমে সুস্থ হওয়ার পর বাড়ী আসে।এরপর পূনরায় মেয়ের বাবা আত্বহত্তার জন্য বিষ হাতে নিয়ে ছেলেটিকে তালাক দেওয়ার কথা বলে। এও বলে যে যদি সে ছেলেটিকে তালাক না দেয় তাহলে সে তার হাতের বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে। এ পর্যায়ে মেয়ে রাজী হয়।

পরবর্তীতে ০২/০৯/২০১৪ ইং তারিখে স্বাক্ষর কৃত একটি তালাক নামা পাঠায় ০৯/০৯/২০১৪ ইং তারিখে ছেলেটিকে। যেখানে প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের একটি কার্ড ছিল সেখানে তালাক নামা পাওয়ার পর স্বাক্ষর করার কথা ছিল কিন্তু অদ্যবদিও তা স্বাক্ষর করেনি। তালাক নামায় লেখা ছিল:

বরাবর,
চেয়ারম্যান সাহেব,
শালিশী পরিষদ আইন বিভাগ
.ইউপি/পৌর সভা (লেখা হয়নি)

ঠিকানা.. (লেখা হয়নি), তালাত(তালাক) দাতা স্ত্রীর নাম ও ঠিকানা.(লেখা হয়েছে); তালাক প্রাপ্ত স্বামীর নাম ও ঠিকানা. (লেখা হয়েছে)।

জনাব,

যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পুর্বক আপনার সদয় অবগতি ও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করিতেছি যে, বিগত..(লেখা হয়নি) ইং তারিখে আমাদের বিবাহ শরিয়ত মোতাবেক এবং কাবিন নামা মূলে সু-সম্পর্ন হয় কিন্তু প্রায় বহুদিন যাবৎ আমাদের পারিবারিক সুখ শান্তি ও বনিবনাট হইতেছে না এবং আমার স্বামী আমাকে মাসিক খড়পোষ দিতেছে না ও খবর গিরি করে না (অথচ ১৮/০৭/২০১৪ ইং তারিখ পর্যন্ত তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল) ইত্যাদি কারণে আমার জীবন যৌবন রক্ষা করিতে একান্ত অপারগ হইয়া আমার দেওয়া তারিখ(লেখা হয়নি) স্মারক নং(লেখা হয়নি) এফিডেভিট এর ক্ষমতা বলে আমি স্বেচ্ছায় সুস্থ্য শরীরে কাহারো কোন প্রকার প্ররোচনা ব্যতিরেকে আমার নিজ নফসের প্রতি তালাকের তাফইজা গ্রহণ করিলাম। এবং ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনে ৭ধারার ১নং উপধারা অনুসারে আপনাকে অবগত করাইলাম।

অতএব উক্ত তালাক কার্যকর করিবার জন্য জনাবের সু-আজ্ঞা হয়।

তারিখ০২/০৯/২০১৪ইং
স্ত্রী ১ম পক্ষের স্বাক্ষর (স্বাক্ষর করেছে)।
কিন্তু বর্তমানে মেয়েটি ছেলেটির কাছে ফিরে আসতে চাচ্ছে।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ.

১. এখানে বিবাহটি শুদ্ধ হয়েছে কিনা?

২. তালাক পতিত হয়েছে কিনা? (এখানে একটি বিষয় বলতেই হয় যে কাবিন নামায় ১৮ নং কলামটিতে রয়েছে ছেলে-মেয়েকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পন করেছে কিনা সেটা ২জনের ১জনও অবগত নয়। পরে খুঁজ নিয়ে দেখা যায় কাজী তার ইচ্ছায় লিখে দিয়েছে)।

৩. তারা কি পূর্ণরায় বসবাস(সংসার) করতে পারবে কিনা? (এক্ষেত্রে করণীয় কি?)।

জানালে খুব উপকৃত হব।

অনুরোধ ক্রমেঃ মোঃ আজিম
মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

উত্তর

যদি বিয়ের সময় উপস্থিত বর কনে মৌখিকভাবে প্রস্তাব ও কবুল করে থাকে। আর সেখানে কাজী ও একজন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত ছিল। তাহলে উক্ত বিয়েটি শুদ্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং উক্ত বিয়েটি বলবৎ আছে। তাই স্বামী স্ত্রী আবার একসাথে হতে শরয়ী কোন বাঁধা নেই। কিন্তু যদি মুখে ইজাব ও কবুল ছাড়া শুধুমাত্র কাবিননামা বা এফিডেভিটে সাইন করা হয়ে থাকে। তাহলে উক্ত বিয়ে সম্পন্ন হয়নি। সে হিসেবে তাদের নতুন করে বিয়ে ছাড়া ঘর সংসার করার সুযোগ নেই।

ومن امر رجلا بأن يزوج ابنته الصغيرة، فزوجها والأب حاضر بشهادة رجل واحد سواهما جاز النكاح (هداية، كتاب النكاح-2\3-7، الدر المختار مع الشامى-4\94، هندية-1\268)

فلو كتب زوجتك فكتبت قبلت لم ينعقد (رد المحتار-4/73، الفتاوى الهندية-1/269، فتح القدير-3/182)

وَلَوْ كُتِبَ الْإِيجَابُ وَالْقَبُولُ لَا يَنْعَقِدُ (الفتاوى الهندية-1/269)

বিঃদ্রঃ পিতা মাতাকে অসন্তুষ্ট করে এভাবে বিয়ে করা ও ঘর সংসার করা উচিত নয়। তাই আপনাদের উচিত পিতা মাতার সন্তুষ্টির দিকে পূর্ণ খেয়াল রাখা।

কারণ, পিতা মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট থাকেন। আর পিতা মাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হোন। বাবা মা। যাদের রক্ত ঘামের উপর সন্তান গড়ে উঠে। তাদের মনে কষ্ট দিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের কোন জীবনেই সুখী জীবন যাপন সম্ভবপর নয়। তাই এ বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত।

عَنْ مُعَاذٍ قَالَ: أَوْصَانِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشْرِ كَلِمَاتٍ قَالَ: ” لَا تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّقْتَ، وَلَا تَعُقَّنَّ وَالِدَيْكَ، وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ،

হযরত মুয়াজ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ আমাকে দশটি বিষয়ে ওসিয়ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তুমি নিহত বা দগ্ধও হয়ে যাও তবু আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। যদি তোমার পরিবার ও সম্পদও ছেড়ে দিতে আদেশ দেন পিতা-মাতা তবু তাদের অবাধ্য হয়ো না। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২০৭৫}

عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَتْ لِي امْرَأَةٌ كُنْتُ أُحِبُّهَا، وَكَانَ أَبِي يَكْرَهُهَا، فَقَالَ لِي: طَلِّقْهَا، فَأَبَيْتُ، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: «طَلِّقْهَا» فَطَلَّقْتُهَا

তালাত দাতা স্ত্রী | ইসলামী যিন্দেগী