যিকির তাহাজ্জুদ ইত্যাদির দ্বারা আত্নশুদ্ধি
প্রশ্ন
যিকির তাহাজ্জুদ প্রভৃতি ইবাদতের মাধ্যমে কি আত্নশুদ্ধি হাসিল করা যায়? বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর
আল্লাহ তা‘আলা কুরআন শরীফে ইরশাদ ফরমান,
قَدۡ اَفۡلَحَ مَنۡ زَکّٰىہَا
অর্থ যে নিজের আত্নাকে শুদ্ধ করেছে সেই সফলকাম হয়েছে।
আত্নশুদ্ধি আল্লাহ্ ওয়ালাদের সুহবত ও তাদের শিষ্যত্ব গ্রহণ ব্যতীত অর্জিত হয় না। হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, বর্তমান যামানায় অধিকাংশ মুসলমানের আমলের যে অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে তার মূল কারন হল আল্লাহওয়ালাদের সুহবত থেকে মাহরূমী। আমি তো (থানভী রহঃ) বর্তমান যমানার সকল মুসলমানদের জন্য আল্লাহ ওয়ালাদের সুহবতকে ফরযে আইন বলে থাকি।
কাবা শরীফ আল্লাহ তা‘আলার মুবারক ঘর হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে ৩৬০টি মুর্তি হতে পবিত্র রাখতে পারিনি, বরং নবী ﷺ এসে নিজে মূর্তি সরিয়ে কাবা শরীফকে পবিত্র করেছেন।
আগাছা বা নিজে নিজে উৎপন্ন হয় যে সমস্ত গাছ পালা, তা একা একা পরিপাটি, সুশৃংখল হয়ে উঠানো বরং কৃষক সেগুলোকে সুসৃংখল করে, তদ্রূপ যে ব্যক্তি কামেল শাইখের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম করে নিজেকে সংশোধন না করায়, সে শুধু কিতাবাদী পড়ে, কামেল শাইখের পরামর্শ বিহীন যিকির আযকার তাহাজ্জুদ ইত্যাদির দ্বারা নিজেকে পরিশুদ্ধি করতে পারবে না। নিজেকে শাইখের হাতে সোপর্দ করে তদনুযায়ী নিজেকে না গড়লে নিজের মনমতে যিকির আযকার, তাহাজ্জুদ ইত্যাদির মাধ্যমে সাওয়াব অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আত্নশুদ্ধি হাসিল হয় না, বরং আত্না নতুন নতুন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি আত্নারপরিশুদ্ধি না হলে মনমত যিকির শোগলই পরবর্তীতে পথ ভ্রষ্টতার কারন হতে পারে, যেমন, কুরআন শরীফে আলোচিত হয়েছে বণী ঈসরাঈলের জনৈক বুযুর্গের কথা, প্রসিদ্ধ রেওয়ায়াত অনুযায়ী তার নাম বালআম ইবনে বাউরা, সে বিস্তারিত জ্ঞান এবং পরিপূর্ন মারেফত হাসিল করার পরও যখন রৈপিক কামনা বাসনা ও স্বার্থ তার উপর প্রবল হয়ে গেল, তখন তার সমস্ত জ্ঞান গরীমা নৈকট্য এবং তাকে চরম লাঞ্ছনা ও অপমানের সম্মুখীন থেকে হল। সুতরাং আত্নশুদ্ধি চারা যিকির আযকার করলেও যে সওয়াব হাসিল হয়, রিয়া তাকাববুরের কারনে তার সমস্ত সাওয়াব ধ্বংস হয়ে যায়। পাকস্থলী ঠিক না থাকলে যেমন ডিম, ঘি, বিরিয়ানী-পোলাও স্বাস্থের জন্য উপকারী না হয়ে ক্ষতির কারন হয়। তেমনি আত্নশুদ্ধি ব্যাতীত যিকির, তাহাজ্জুদ অন্তরের ধ্বংসাত্নক রোগ সৃষ্টির কারন হয়ে থাকে, এজন্য আল্লাহওয়ালাগন যিকির আযকারের তুলনায় মুরীদের অন্তরের রোগের চিকিৎসার প্রতি বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকেন, আর এটাই সঠিক পন্থা। [প্রমাণঃ সূরা আরা’ফ -১৭৫, আল ইলমু ওয়াল উলমা ১৮৫]