মহিলার জন্য ঝাঁড়-ফুকের ব্যবসা করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৪ আগস্ট, ২০২৫সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে এক ব্যক্তি রয়েছে, যার স্ত্রী ঝাড় ফুক (ফকিরী) ব্যবসা করে। তার দ্বারা নাকি বহুলোক উপকৃত হয়েছে। সে বৎসরে বিভিন্ন সময়ে বাড়িতে যিকিরের আয়োজন করে। সেখানে সারা রাত ঢোল-বাদ্য বাজানো হয়, জিকির করা হয় এবং শিরণী বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, স্ত্রীর আয়ই তার সংসারের একমাত্র আয় নয়, তার (ব্যক্তির) নিজস্ব জমি জায়গা আছে এবং সেখানের ফসলও সংসারের আয়ের উৎস।

এখন প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তি যদি গ্রামের মসজিদে কিছু দান খয়রাত করতে চায় তবে সেটা নেয়া জায়িয কিনা? এবং তার স্ত্রী যে ব্যবসা করে- সেটাও ইসলামের দৃষ্টিতে জায়িয কিনা?

উত্তর

(ক) কুরআন হাদীসে বর্ণিত দু`আ দ্বারা তাবীজ ও ঝাড়-ফুঁক করা ও পারিশ্রমিক হিসেবে তার বিনিময় গ্রহণ করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে অবৈধ নয়। তবে কুফুরী ও শিরকী বা শরী‘আত বিরোধী মন্ত্র পড়ে তাবীজ ও ঝাড়-ফুঁক করা হারাম ও নাজায়িয এবং তার বিনিময় গ্রহণ করাও হারাম। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৫:১৬৬, #খাইরুল ফাতাওয়া ১:৩৪৫, #ফাতাওয়া রশীদিয়া ৪৯, #আবু দাউদ শরীফ ২:৫৪৪]

(খ) প্রকাশ থাকে যে, উল্লেখিত মহিলার ঢোল-বাদ্য বাজানোর আয়োজন সস্পূর্ণরুপে হারাম ও নাজায়িয। আল্লাহর জিকিরের সাথে হারামের মিশ্রণ মারাত্মক অপরাধ। সুতরাং, তার উচিত ঐ সমস্ত কাজ থেকে খালিস তাওবা করে ইসলামের হুকুম-আহকাম মেনে চলা।

(গ) উক্ত মহিলার স্বামীর টাকা মসজিদে গ্রহণ করতে কোন অসুবিধা নেই। তার স্ত্রীর উপার্জন তার উপার্জন বলে গণ্য হবে না। বরং, তার সম্পদ ও স্ত্রীর সম্পদ পৃথক। অবশ্য লোকটির কর্তব্য নিজের স্ত্রীকে হারাম কাজ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করা। সে যদি এ দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে তাকে বয়কট করা জায়িয হবে এবং তখন তার দান-খয়রাত গ্রহণ না করা জায়িয হবে।

মহিলার জন্য ঝাঁড়-ফুকের ব্যবসা করা | ইসলামী যিন্দেগী