আত্মহত্যাকারীর শাস্তি কি? তাদের ঈসালে সাওয়াব করা যাবে কি?

প্রশ্ন

আত্মহত্যাকারীর প্রতি আল্লাহ পাকের ঘোষণা তারা জাহান্নামী। একথা ঠিক কি-না? তাদের জন্য কুরআন খতম, দু‘আ কালাম পড়ে ঈসালে সাওয়াব করা যাবে কি-না? লোকজনদেরকে খাওয়ানো এবং সে অনুষ্ঠানে খাওয়া যাবে কি-না? কুরআন-হাদীসের আলোকে দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

আত্মহত্যা কবীরা গুনাহ। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে কঠোর ধমকি এসেছে। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে পড়ে গড়ীয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামে যাবে এবং জাহান্নামের মধ্যে অনবরত নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। সে জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, সেই বিষ তার হাতে থাকবে যা সে জাহান্নামের মধ্যে পান করতে থাকবে এবং সে জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোন লৌহ অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সেই অস্ত্র তার হাতে থাকবে; যার দ্বারা সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।

উল্লেখ্য, আত্মহত্যার জায়িয মনে করে করলে ঈমান নষ্ট হয়ে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। আর আত্মহত্যাকে জায়িয মনে না করলে মানুষ বেঈমান হয় না। তাই আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে যে কোন গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন।

হাদীসে শরীফে আত্মহত্যাকারীকে ধমকি স্বরূপ চিরস্থায়ী জাহান্নামী বলা হয়েছে এই অর্থে যে, সে দ্বীর্ঘকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। অথবা চিরকাল শাস্তি ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আত্মহত্যাকে জায়িয বলে বিশ্বাস করবে।

সুতরাং, আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির জন্য শরী‘আতসম্মত পন্থায় ঈসালে সাহওয়াবের উদ্দেশে কুরআন খতম করে বখশিয়ে দেওয়া বা নিজের হালাল মাল থেকে গরীব-মিসকীনদেরকে খানা খাওয়ানো জায়িয, এতে কোন অসুবিধা নাই।

উল্লেখ্য যে, ইসালে সাওয়াবের নামে আমাদের দেশে অনেক গর্হিত কাজ প্রচলিত রয়েছে যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিদ‘আত ও মনগড়া। যেমন-নির্দিষ্ট কোন দিন তারিখ ত্রিশা, চল্লিশা, ইত্যাদি উপলক্ষ্যে এলাকার গণ্য-মান্য ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়-স্বজনসহ ধনী-গরীব সকলের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা। টাকার বিনিয়মে কুরআন শরীফ খতম করানো, মৃত ব্যক্তির সম্পদ বন্টন না করে ইয়াতীমদের সম্পদ থেকে দান-খয়রাত করা ইত্যাদি। এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সেগুলোতে যোগ দেওয়া উভয়টাই বিদ‘আত ও নাজায়িয। বরং সাওয়াব রিসানীর সহীহ তরীকা হচ্ছে, মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ ব্যক্তিগতভাবে তাকে সাওয়াব পৌঁছানোর নিয়্যাতে সময়ে সময়ে কুরআন খতম করে বা কালিমা তাইয়্যেবা পাঠ করে বা নফল নামায পড়ে সাওয়াব রিসানী করে দিবে। আর যখন যার যেরকম সামর্থ্য হয় নিজের হালাল মাল দ্বারা গরীব-মিসকীন ও ইয়াতীম-অসহায়দেরকে খানা খাওয়াবে। তাদেরকে কাপড়-চোপড় ও টাকা-পয়সা ইত্যাদি দান করবে এবং তার মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে সাদকায়ে জারিয়াসহ অন্যান্য নেক কাজ করে তাকে সাওয়াব রিসানী করতে থাকবে। [মিশকত শরীফ ২৯৯;মিশকাতঃ ১:১২৭;মাযাহেরে হক ৩:৫১৫; ফাতাওয়া মাহমূদীয়া ৬:৮৫; আহসানুল ফাতাওয়া ১:৩৬১; ইমদাদুল আহকাম ১:১১২;আযীযুল ফাতাওয়া ৩৪৪]