হিন্দু কর্তৃক অনুদিত কুরআন শরীফ পড়া
প্রশ্ন
কুরআন শরীফ সর্বপ্রথম বাংলা অনুবাদ করেছেন একজন হিন্দু লোক। এর দ্বারা তিনি কি কোন সাওয়াবের অধিকারী হবেন? তার অনুদিত কুরআন শরীফ আমাদের পড়া ঠিক হবে কি?
উত্তর
কুরআন পাকের সর্বপ্রথম বঙ্গানুবাদকারী হিসাবে “গিরিশ চন্দ্র সেন” এর নাম উল্লেখিত হলেও তিনি আসলে প্রথম বঙ্গানুবাদকারী নন। বরং প্রচুর সংখ্যক ধর্মীয় বই পত্রের অনুবাদক কলিকাতাবাসী মাওলানা আব্বাস আলী রহ. সর্বপ্রথম সম্পূর্ন কুরআন পাকের বাংলা অনুবাদ করেন। কোন ধর্মীয় কাজের পুণ্য লাভ করতে হলে, তার জন্য পূর্বশর্ত হল-ঈমান আনয়ন করা। ঈমান ছাড়া যত নেক কাজই করা হোক না কেন, তার কোন প্রতিদান আখিরাতে দেয়া হবে না। তবে দুনিয়ার বুকে সে মাল-দৌলত ও আরাম-আয়েশের দিক দিয়ে কিছু প্রতিদান পেতে পারে। এক্ষেত্রে গিরিশ চন্দ্রের ইসলাম গ্রহনের কোন প্রমান পাওয়া যায় না। কাজেই তিনি সাওয়াবের অধিকারী হবেন না। আর তার অনুদিত কুরআন শরীফ পড়াও কোন ফায়দা আশা করা যায় না।
কারন-কুরআনের তরজমা বা তাফসীর কোন মামুলী ব্যাপার নয়। এর জন্য সুনির্দিষ্ট পনেরটি বিষয়ে গভীর জ্ঞান হাসিল করা জরুরী। ঐ জ্ঞানসমূহ হাসিল করা ব্যতীত তরজমা–তাফসীর করার কারো কোন অধিকার নেই এবং ঐ ধরনের লোকের কৃত তরজমা বা তাফসীর পড়াও জায়িয নয়। গিরিশ চন্দ্র সম্ভবতঃ ঐ পনেরটি বিষয়ের নামও জানতেন না। কাজেই তার তরজমাকে কুরআনের সহীহ তরজমা বলা যায় না। সুতরাং এমন লোক, যারা কুরআনের সহীহ তরজমা জানেন না, তাদের জন্য ঐ তরজমা পড়া জায়িয হবে না। কারন তাতে হিতে বিপরীত হওয়াটা অবশ্যম্ভাবী। [প্রমাণঃ আল কুরআন মাওলানা আবু তাহির ১:১০]