নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৮ অক্টোবর, ২০২৪নামায

প্রশ্ন

নামাযী ব্যাক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া যায় কিনা? যদি যায় তাহলে যাওয়ার সঠিক নিয়ম কি?

উত্তর

এ ব্যাপারে নিম্নলিখিত বিধি জানা প্রয়োজনঃ

(ক) নামাযীর সম্মুখ দিয়ে এক পাশ থেকে আরেকপাশে চলে যাওয়াকে পরিভাষায় অতিক্রম করা বলা হয়-এটা অবশ্যই গুনাহে কবীরা। নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেন- “নামাযীর সম্মুখ দিয়ে যাতায়াত করা যে কত বড় গুনাহ, তা যদি অতিক্রমকারী জানত, তাহলে সে ৪০ বৎসর অপর বর্ণনায় ১০০ বৎসর অপেক্ষা করতে হলেও নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে থাকত; তথাপিও নামাযীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করত না। [তিরমিযী পৃঃ ৭৯খণ্ড ]১

(খ) যিনি নামাযীর সম্মুখভাগে পূর্ব থেকেই অবস্থান করছিলেন, অথবা পরবর্তী সময়ে কেউ এসে তার পিছনে নামাযে রত হওয়ার তিনি সম্মুখবর্তী হয়ে পড়েছেন, এমতাবস্থায় তিনি যদি সম্মুখ ভাগ থেকে নামাযীর কোন এক পার্শ্ব দিয়ে চলে যান, তাহলে এটাকে অতিক্রম করা বলা হবে না। এবং তিনি গুনাহগারও হবেন না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত এরুপ না করাই সমীচীন, যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির শিকার না হয়। [প্রমাণঃ আলমগীরী পৃঃ ১০৪ খণ্ড ১]

(গ) রাস্তা-ঘাটে নামাযীকে তার সম্মুখে ন্যূনতম হাতের আঙ্গুল পরিমাণ মোটা ও ১ হাত লম্বা কোন বস্তু দাঁড় করিয়ে রাখা কর্তব্য, যাতে সম্মুখভাগ দিয়ে মানুষ বা কোন প্রাণী চলাচলে অসুবিধা না হয়।

(ঘ) নামাযী ব্যক্তি যদি এ ধরনের কোন ব্যবস্থা না করেন, তাহলে অতিক্রমকারী উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে কোন বস্তু মুসল্লীর সম্মুখে রেখে যাতায়াত করতে পারেন।

(ঙ) যদি খোলা ময়দানে কিংবা বড় মসজিদে কেউ নামাযরত থাকেন, তাহলে নামাযী তার সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখলে প্রচ্ছন্নভাবে সম্মুখভাগে যতটুকু দৃষ্টিগোচর হয় (অর্থাৎ দুই কাতার বা ৬/৭ হাত) ততটুকু স্থান ছেড়ে মুসল্লীর সমানে দিয়ে যাওয়া বৈধ; তবে বিনা প্রয়োজনে না যাওয়াই উত্তম। [প্রমাণঃ শামী ১:৬৩৬# ফাতাওয়া আলমগীরী ১:১৪০# আল বাহরুল রায়িক ২:১৫]

নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা | ইসলামী যিন্দেগী