রোযা অবস্থায় ইনজেশন নিলে রোযা ভঙ্গ না হওয়ার কারণ

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৯ অক্টোবর, ২০২৪রোযা ও ইতিকাফ

প্রশ্ন

ইনজেকশনের দ্বারা শরীরে ঔষধ পৌঁছানোর কারণে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়, হ্মুধা নিবারণ হয় তাই রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হবে কি-না জানতে চাই।

উত্তর

রোযা অবস্থায় পেটে বা মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে অর্থাৎ, নাক, কান, গলা বা পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ইচ্ছাপূর্বক কোন কিছু প্রবেশ করলে বা দাখিল হলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যায়। এটাই শরীয়তের বিধান। ইনজেকশন দ্বারা যেহেতু স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে পেটে বা দেমাগ কিছু পৌঁছে না। সুতরাং, তার দ্বারা রোযা ভঙ্গ হবে না। আর শুধু শরীরে কোন কিছু প্রবেশ করলে বা করালেই রোযা ভঙ্গ হয় না। যেমন উযু বা গোসল করলে অথবা শরীরে তৈল মালিশ করলে, পানি ও তৈল শরীরে কিছু কিছু প্রবেশ করে। যার ফলে গরমের সময় গোসল করলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। অনেক সময় ক্ষুধাও নিবারণ হয়ে যায়। এমন কি হুযূর ﷺ নিজেও অধিক গরমের সময় রোযা অবস্থায় শরীর ঠাণ্ডা করার জন্য ভিজা কাপড় মাথায় দিয়ে রেখেছেন। মাথার শিরার সাথে যেহেতু শরীরের সমস্ত শিরার সম্পর্ক রয়েছে, তাই মাথা ঠাণ্ডা হওয়ার কারণে সমস্ত শরীরও ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কিন্তু এগুলো যেহেতু মস্তিষ্কে বা পেটে স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে পৌঁছে না, তাই এর দ্বারা রোযা ভঙ্গ হয় না।

এমনিভাবে ইনজেকশনের ঔষধ দ্বারা যদিও অনেক সময় ক্ষুধা নিবারণ হয় এবং শরীর ঠাণ্ডা হয়, কিন্তু ইনজেকশনের ঔষধ স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে না। অতএব, ইনজেকশনের দ্বারা রোযা ভঙ্গ হবে না এবং রোযার কোন প্রকার ক্ষতিও হবে না।[প্রমাণঃ বাদায়েউস সানায়ে ২:৯৩# ফাতাওয়া দারুল উলূম ৬:৪০৮# আহসানুল ফাতাওয়া ৪:৪২২]

রোযা অবস্থায় ইনজেশন নিলে রোযা ভঙ্গ না হওয়ার কারণ | ইসলামী যিন্দেগী