“বিবাহ তো একবারই হয়” একথার অসারতা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৬ জানুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

অনেক মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর তারা আর অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বসতে চায় না। অনেকে এ কথাও বলে থাকে যে, বিবাহ তো একবারই হয়। সুতরাং দ্বিতীয় বিবাহর প্রশ্নই উঠে না। এ সম্পর্কে শরী‘আতের হুকুম কি?

উত্তর

কুরআন শরীফে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট আদেশ দিয়েছেন যে, “তোমরা বিবাহহীন বিধবা তালাকপ্রাপ্তা মেয়েদের বিবাহ দিয়ে দাও” (সূরা নূর ৩২/ আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস, ৩:৩১৯)

হযরত উমর ফারুক রা.-এর মেয়ে হযরত হাফসা রা. যখন বিধবা হলেন, তখন তিনি নিজের মেয়ের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এ প্রসঙ্গে তিনি হযরত আবু বকর রা. ও হযরত উসমান রা.-এর নিকট নিজের মেয়ের বিবাহের প্রস্তাব করেন। অবশ্য পরবর্তীতে হযরত নবী করীম ﷺ নিজেই হাফসা রা.-এর বিবাহের প্রস্তাব করেন। এবং তখন তাঁর সহিত বিবাহ হয়ে যায়। উল্লেখিত হাদীস দ্বারা শরী‘আতের বিধান পরিষ্কার হয়ে গেল যে, মুরুব্বীদের তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করা কর্তব্য। এটাই আল্লাহ ও রাসূলের ﷺ নির্দেশ। তবে কোন বিধবার যদি ইয়াতিম বাচ্চা থাকে এবং অন্যত্র বিবাহ হয়ে গেলে, তাদের দেখা-শুনা ও তালীম-তরবিয়্যত বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা হয়, তাহলে সেরূপ ক্ষেত্রে ঐ ইয়াতীম বাচ্চাদের লালন-পালনের খাতিরে বিধবা মহিলার জন্য অন্যত্র বিবাহ না বসার অনুমতি আছে।

“বিবাহ একবারই হয়”-এটা একটি শরী‘আত বিরোধী জঘন্য কথা। এটা আসলে হিন্দুয়ানী নিয়ম। হিন্দুদের বাতিল ধর্মমত হিসেবে এ ধরনের কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু ইসলামে এমন কোন কথা নেই। বরং একজন মহিলা যদি একাধিকবার বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা হয়, ইসলামে তার জন্যও বিবাহ বসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ, হতে পারে পরবর্তী বিবাহের বদৌলতে তার কোলে এমন সন্তান জন্ম নিবে, যে শুধু নিজের পিতামাতার চেহারা নয়, বরং পুরা জাতির চেহারাকে উজ্জ্বল করে দিবে। আল্লাহর বান্দাগণ তার থেকে অনেক ধরনের খেদমত ও সেবা পাবে। অন্যত্র বিবাহ না করলে সে মহিলা এসব ফায়দা থেকে বঞ্চিত হবে। উপরন্তু সে বাবা-ভাইদের পেরেশানীর কারণ হবে এবং নিজের দ্বীনদারী ও ইজ্জত-আবরু সংকটের সম্মুখীন করে ফেলবে। এটা কখনো উচিৎ নয়। বরং দ্বীনদার পাত্র পাওয়ার সাথে সাথে সম্মতি দেয়া উচিৎ। যদিও সে ব্যক্তি গরীব হোক না কেন।

“বিবাহ একবার হয়” কথাটি একে তো হিন্দুয়ানী কথা, দিতীয়তঃ এর মধ্যে সূক্ষভাবে আল্লাহকে দোষারোপ করা হয়, যা ঈমানের জন্য বড়ই ঝঁকিপূর্ণ। দোষারোপ এভাবে হয় যে, উক্ত কথার দ্বারা তারা বুঝাতে চায় যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে একজন স্বামী দিয়ে বিনা অপরাধে তাকে নিয়ে গেলেন। এটা তার উপর আল্লাহ তা‘আলার ইনসাফ হলো না। (নাউযুবিল্লাহ) কত বড় মারাত্মক কথা। একথা পরিষ্কারভাবে বললে তো ঈমানই চলে যাবে। তাই এরূপ কথা মুখে আনাই উচিত নয়।

[প্রমাণঃতাফসীরে কুরতুবী ১২: ২৩৯]

“বিবাহ তো একবারই হয়” একথার অসারতা | ইসলামী যিন্দেগী