ঝগড়ার সময় তিন তালাক দেওয়া

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

একদা আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন আমি আমার স্ত্রীকে রাগের বশীভূত হয়ে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক বলেছি। কিন্তু আমি কারো নাম নেইনি। স্ত্রীর নাম নেইনি। স্ত্রীর মা-বাবার নামও নেইনি। আমার এ তালাক পতিত হয়েছে কি-না? তালাক পড়ে থাকলে, এখন আমার কী উপায়?

উত্তর

বর্ণনা অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে উক্ত স্ত্রী আপনার জন্য সম্পূর্ণ রূপে হারাম হয়ে গেছে। স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার সময় প্রদত্ত তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্ত্রীর বা স্ত্রীর মা-বাবার নাম নেয়ার প্রয়োজন নেই। অনুরূপভাবে স্পস্ট তালাক শব্দ দ্বারা-তালাক দিলে নিয়্যতের প্রয়োজন হয় না। তালাক পতিত হয়ে যায়। আর রাগান্বিত অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক পড়ে যায়। সুতরাং ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর খোরপোষ দিতে হবে এবং মোহরানার দাবী বাকী থাকলে তা আদায় করে দিতে হবে। [প্রমাণঃ রদ্দুল মুহতার, ৩:২৪৪/২৪৯ # ইমদাদুল মুফতীন, ৫৯৩ # ফাতাওয়া দারুল উলূম, ৯:৪৯,৭৯,২৯২]

প্রকাশ থাকে যে, স্বামীর জন্য উক্ত তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে শর‘ঈ হালালা ব্যতীত দ্বিতীয় বার গ্রহণ করার আর কোন পথ নেই। শর‘ঈহালালা হচ্ছে- তিন হায়েয পরিমাণ সময় ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর কোন প্রকার শর্ত ছাড়াই মহিলা অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বসবে। অতঃপর উভয়ের মধ্যে যৌন মিলন হওয়ার পর দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্বেছায় তালাক দিলে, অথবা সেই ২য় স্বামী মৃত্যুবরণ করলে পুনরায় দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দত পালনের পর উভয়ে রাজী থাকলে, বিবাহের সকল শর্ত সাপেক্ষে উক্ত স্ত্রীকে ১ম স্বামী গ্রহণ করতে পারে। উল্লেখিত সুরত ছাড়া তাদের ঘর-সংসার করার আর কোন পথ নেই। [প্রমাণঃ হিদায়া, ২:৩৯৯ # ফাতাওয়া আলমগীরী, ১:৪৭৩]

ঝগড়ার সময় তিন তালাক দেওয়া | ইসলামী যিন্দেগী