বৃদ্ধ পিতার বিবাহের বিধান
প্রশ্ন
আমাদের সংসারে আমাদের পাঁচ ভাইকে রেখে আমার মাতা ইন্তেকাল করেছেন। তাই আমার বৃদ্ধ পিতা চাচ্ছেন নতুন করে বিবাহ করতে। এদিকে আমাদের ভাইদের মধ্যে কেউ কেউ তো নতুন বিবাহের পক্ষে, আবার কেউ বিবাহের বিপক্ষে। অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে আমি আব্বার বিবাহের পক্ষে। এক্ষেত্রে জিজ্ঞাসা হচ্ছে, এই ব্যাপারে এই মুহূর্তে শরী‘আতের আইন কি? আর আমার করণীয় কি?
উত্তর
আপনার পিতার যদি একটি মহিলার খাওয়া দাওয়া, লেবাস-পোশাক ও থাকার ঘর ইত্যাদি সর্বপ্রকার খরচ দেয়ার মত ব্যবস্থা থাকে, তাহলে আপনার পিতার জন্য বিবাহ করাই উত্তম। আপনাদের বাধা দেয়ার কোন অবকাশ নেই। বাধা দিলে পিতার কষ্টের জন্য আপনারা পিতার নাফরমান সাব্যস্ত হবেন। আপনাদের জন্য উচিৎ, সহযোগিতা করে পিতাকে বিবাহ করিয়ে দেয়া এবং পিতার খিদমতের ব্যবস্থা করা। কারণ- মানুষ যত বেশী বার্ধক্যে পৌঁছে, ততবেশী স্ত্রীর এমন খিদমতের মুখাপেক্ষী হয়, যে সব খিদমত দুনিয়াতে অন্য কোন কারো দ্বারা সম্ভব নয়। নিজের ছেলে-মেয়ে বা বেটার বউ দ্বারাও সম্ভব নয়। হ্যাঁ, তার বাহ্যিক দু’চারটা খিদমত করতে পারে, যা তার জন্য যথেষ্ট নয়। আপনাদের বাধার কারণে যদি আপনাদের পিতা বিবাহ না করেন এবং কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে যান বা কষ্ট পেতে থাকেন, তাহলে এই কষ্ট বা গুনাহের জন্য আপনাদের আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। আর যদি আপনাদের পিতার উক্ত মহিলার খরচ চালানোর মতো কোন ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে আপনাদের ক্ষমতা থাকলে, অবশ্যই বিবাহের ব্যবস্থা করা উচিৎ। এটা পিতার খিদমতের মধ্যে শামিল। আর পিতার খিদমত করা বা খিদমতের ব্যবস্থা করা সন্তানের জন্য জরুরী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েরা পিতাকে বিবাহে এই জন্য বাধা দেয় যে, তারা ভয় পায়, যদি পিতার এই বিবাহের কারণে তাদের আরো ২/১টি ভাই-বোন দুনিয়াতে আসে, তাহলে পিতার সম্পদের মধ্যে তাদের অংশ কম হয়ে যাবে। তাদের এ ধারনা ভুল ও মস্ত বড় জাহেলিয়্যাত। কারণ বেশী সম্পদের লোভে পিতাকে কষ্টে রাখা কোন সুসন্তানের জন্য জায়িয তো নয়ই সম্ভবও নয়। তাছাড়া তাদের জানা উচিৎ, তাদের ভাগ্যে যতটুকু সম্পদ আল্লাহর পক্ষ থেকে লেখা আছে, তা তারা সর্ব অবস্থায় পাবে। এটা কেউ কমাতে পারবে না। সুতরাং পিতাকে কষ্ট দিয়ে সম্পদ বাড়ানোর চিন্তা করা অবাস্তব। তাদের বুঝা উচিত পিতার থেকে বিনা পরিশ্রমে যতটুকু পাচ্ছে, এটাই তো বেশী। তারপরও কি পিতার এই ইহসানের কারণে তাকে কষ্টে ফেলে রাখা জায়িয হতে পারে? সুতরাং এ অবস্থায় আপনার কর্তব্য, অন্য ভাইদেরকে রাজী করাতে চেষ্টা করা এবং তাদের সামনে শরী‘আতের বিধান বর্ণনা করে তাদেরকে পিতার নাফরমানীর আযাব-গযবের কথা বুঝিয়ে রাজী করা। তারা রাজী না হলে, আপনি নিজের দ্বায়িত্বে পিতার খিদমতের লক্ষ্যে আপনার আপনার থেকে যতটুকু সম্ভব, তা করে নিবেন। এতে আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে বর্ণনাতীত লাভবান হবেন।
[প্রমাণঃ ফাতওয়া দারুল উলূম৭:৪২]