যে সমস্ত কারণে জন্ম বিরতিকরণ বৈধ

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক, সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

কোন কোন কারণে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে? ধরুন, একটি মহিলার অবস্থা এমন যে, যদি মহিলাটি গর্ভধারিণী হয়, তাহলে তার বিরামহীন রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এমতাবস্থায় উক্ত মহিলা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে কি-না?

উত্তর

যে সব পদ্ধতিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেগুলো প্রধানতঃ দুই ভাগে বিভক্তঃ (১) স্বায়ী জন্মনিরোধ। (২) অস্থায়ী জন্মনিরোধ।

স্বায়ী পদ্ধতিঃ এমন কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা, যাতে সন্তান গর্ভধারণ ক্ষমতা চিরদিনের জন্য সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।

অস্থায়ী পদ্ধতিঃ এমন পদ্ধতি গ্রহণ, যাতে সাময়িকভাবে সন্তান গর্ভধারণ বন্ধ থাকে, গর্ভধারণ ক্ষমতা একেবারে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। এতে পুনঃসন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের লক্ষ্য নানা প্রকার হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে-জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিরোধ করা ও সুখী সংসার গড়া। যার কারণ হিসাবে বলা হয় যে, এটা গ্রহণ না করলে, মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য ও বাসস্থান প্রভৃতির ভারসাম্য রক্ষা পাবে না। অথচ এ বিশ্বাসের দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার রাযযাকিয়াতের(রিযিকদাতা হওয়ার) অস্বীকার করা হয়, যা কুফর এবং ঈমান বিধ্বংসী। কারণ- আল্লাহ তা‘আলা শুধু মানুষ নয়, সকল মাখলুকের রিযিকের জিম্মাদারী নিজের উপর রেখেছেন। কোন মাখলুকের উপর এ দায়িত্ব অর্পণ করেননি। রিযিক কোন মানুষের চেষ্টা, তদবীর ও পরিকল্পনা গ্রহণের উপর ছাড়েন নি। মানুষ রিযিক অন্বেষণের দায়িত্ব হিসেবে চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু কে কতটুকু পাবে, এটা তার চেষ্টা-তদবীরের উপর নির্ভর করে না, বরং এটা খোদায়ী ফায়সালার উপর নির্ভরশীল। এ আক্বীদা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর ব্যতিক্রম কোন বিশ্বাস রাখা কুফর।

[সূরা বনী ইসরাইল ১৮,# সূরা কাসাস-৮২, # সূরা আনকাবূত-৬২ আয়াত]

আল্লাহ তা‘আলা যে পরিমাণ মাখলুক সৃষ্টি করেন, সেই পরিমাণ রিযিকের অবশ্যই ব্যবস্থা করেন। পৃথিবীতে যে অভাব অনটন দেখা যায়, তা রিযিকের স্বল্পতার দরুণ নয়। বরং রিযিকের ইসলামী বণ্টন ব্যবস্থার অনুপস্থিতির দরুন। তাই দরিদ্রতার অজুহাতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা জায়েয হবে না। তবে শরী‘আতে ব্যক্তিগত বিভিন্ন উযর-অসুবিধার কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ জায়েয আছে। উযর- স্থায়ী হলে, স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। আর উযর অস্হায়ী হলো অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। যেমন- কোন ভদ্র মহিলার এমন বিশেষ কোন অসুস্থতা আছে যে, সন্তান ধারণ তার পক্ষে সম্ভব নয়। বরং সন্তান পেটে আসলে, তার মারা যাওয়ার আশংকা আছে। এ ক্ষেত্রে তিনি মুসলিম দীনদার বিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তেমনিভাবে কোন মহিলার স্বাস্থ্যহানী বা নানান রোগ-বালাই বা ঘন ঘন অনেক বাচ্চা হওয়ায় তাদের লালন-পালনে বেশী অসুবিধা হওয়ার বা কোন মায়ের বুকের দুধের অভাবে সন্তানের জীবন নাশের সম্ভাবনা ইত্যাদি উযর বা কোন সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ অবৈধ নয়। সে ক্ষেতে সমস্যা দূর হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী জন্ম নিয়ন্ত্রণের কোন একটি পদ্ধতি মুসলিম দীনদার বিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে এমন পদ্ধতি হতে হবে, যা গ্রহণ করতে গিয়ে কোন হারামের মধ্যে (যেমন- সতর খোলা ইত্যাদিতে) যেন লিপ্ত হতে না হয়। ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবে।

[প্রমাণঃ সূরা আন’আম, ১৫১, সূরা বনী ইসরাইল ৩১, সূরা হুদ ৬, সূরা মায়িদাহ ৮৭, মিশকাত শরীফ ৩৬৭, বুখারী, ২:৭৫৯, ফতহুল বারী, ৯:৯৫, ফাতাওয়া শামী,৩:১৭৬, ফাতাওয়া শামী, ৬:৪২৯, ফাতাওয়া রহীমিয়া, ২:২৩৪, ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪:২০৪]

যে সমস্ত কারণে জন্ম বিরতিকরণ বৈধ | ইসলামী যিন্দেগী