আত্নশুদ্ধি বাদ দিয়ে শুধু ইবাদত-বন্দেগী করা
প্রশ্ন
কেহ নামায রোযা ইত্যাদি ইবাদত যথাযথভাবে পালন করে কিন্তু আত্নশুদ্ধি করে না বা এর প্রয়োজন মনে করে না, তাহলে তার কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.বলেন, নামায, রোযা, ইত্যাদি ইবাদত শরী‘আতে ফরযে আইন। তেমনিভাবে আত্নশুদ্ধি ফরযে আইন। আর কেউ এক ফরয আদায় করে অপর ফরয ছেড়ে দিলে শাস্তিযোগ্য হবে। তাই শুধু নামায রোযা করল কিন্তু আত্নশুদ্ধি করল না, এতে তার ফরয তরক করার গুনাহ হবে, শুধু এতটুকুই নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে ইসলাহে নফস না থাকার দরুন এবং ইখলাস হাসিল না হওয়ার দরুন সমস্ত ইবাদত-বন্দেগীই বাতিল হয়ে যেতে পারে। যেমন, কেউ আল্লাহওয়ালার দরবারে গিয়ে অন্তরের রোগসমূহের চিকিৎসা করিয়ে আত্নার গুনগুলো অর্জন করল না। তাহলে রিয়ার কারনে তার সকল ইবাদত বরবাদ হয়ে যাওয়ারই প্রবল আশংকা আছে। কারন অন্তরের গুণাবলীর মধ্যে একটা হল ইখলাস। এখন কেউ যদি রিয়ার সাথে ইবাদত করে অর্থাৎ তার ইবাদতে ইখলাস বা লিল্লাহিয়াত না থাকে তা হলে তার ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না, বরং বাহ্যিক দৃষ্টিতে উহা ইবাদত মনে হলেও মূলত তা ইবাদত হিসাবে গণ্য হবে না। হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে যে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তিন শ্রেণীর লোকদের দ্বারা আল্লাহ তা`আলা জাহান্নাম উদ্বোধন করবেন। যথা, (ক) শহীদ (খ) আলেম (গ) দানবীর, তারা পূর্ন যিন্দেগী জান-মাল দিয়ে ইবাদত-বন্দেগী ও দ্বীনের কাজ করে গেছে, তবে তাদের অভাব এতটুকুই ছিল যে, তারা অন্তরে রোগ-রিয়া দূর করে নাই এবং অন্তরের গুন ইখলাস হাসিল করে নাই। অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক মহিলা বেশী বেশী নামায রোযা-সাদকা ইত্যাদি আদায় করত কিন্তু প্রতিবেশীদেরকেও কষ্ট দিত, হুযুর ﷺ বলেন, সে জাহান্নামী। এখানেও ইবাদত থাকা সত্ত্বেও অন্তরে খোদাভীতির অভাব ছিল, যদ্দরুণ সে মানুষকে কষ্ট দিত। এবং শেষ পর্যন্ত জাহান্নামী হল।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হল যে, শুধু নামায রোযা ইত্যাদি আদায় করলেই চলবে না বরং আত্নশুদ্ধিও করে ইবাদত-বন্দেগী কবুল করানোর ব্যবস্থা করতে হবে অন্যথায় আত্নশুদ্ধি ব্যতীত অনেক ক্ষেত্রে ইবাদতও বিফলে যাবে এবং জাহান্নামে যাওয়ার কারন হবে। [প্রমাণঃ মিশকাত শরীফ ১/৩৩, ২/৪২৪]