কবরে গাছের ডাল গাড়া
প্রশ্ন
আমাদের অঞ্চলে কবরে লাশ দাফনের পর কবরের উপর চার কোনায় ৪ টি গাছের ডাল লাগিয়ে ঐ ডাল ধরে চার কুল (অর্থাত সূরা কাফিরূন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও নাস) পড়া হয়। এটা শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটা যুক্তি সঙ্গত?
উত্তর
কবরের লাশ দাফনের পর কবরের চার কোনায় খেজুর বা অন্য গাছের ডাল গাড়া, এ ডাল ধরে চার কুল পড়া শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদ‘আত ও বর্জনীয় কাজ। অনেকেই এটাকে জায়িয করার জন্য মুসলিম শরীফের হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন যে, হুযূর ﷺ দু’টি কবরের উপর খেজুরের দু’টুকরা করে গেড়ে বলেছিলেন- যতক্ষণ পর্যন্ত এ ডাল দু’টি তরতাজা থাকবে ততক্ষণ তার আযাব হাল্কা করা হবে। এর জবাব এই যে, এটা হুযূর ﷺ- এর সাথেই খাস ছিল। হুযূরের সুপারিশের কারণে তাদের আযাব হাল্কা করা হয়েছিল। ডাল দু’টি শুধু আযাব কতক্ষণ বন্ধ থাকবে অর্থাৎ শুকাবে না ততক্ষণ পর্যন্ত হুযূর ﷺ- এর দু‘আর বরকতে আযাব বন্ধ থাকবে। যদি এমন করার অনুমতি সবার জন্য হত এবং এটা কোন নেক কাজ হত, তাহলে সাহাবায়ে কিরাম অবশ্যই এ আমল করতেন। কেননা, তারা নেক কাজের প্রতি বেশী আগ্রহী ছিলেন। এতদসত্বেও কোন সাহাবী এমন করেননি। তাই এটা বর্জন করা জরুরী।
তাছাড়া চার কোনায় চার কুল পড়ার প্রমাণও কোন সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় না। তবে হাদীসে এতটুকু প্রমাণিত আছে যে, একজন মাথার দিকে সূরা বাকারা এর শুরু থেকে মুফলিহুন পর্যন্ত আর একজন পায়ের দিকে সূরা বাকারার শেষ পৃষ্ঠা আমানার রাসূল থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করবে, এটাই সুন্নাত।
[প্রমাণ: মুসলিম শরীফ, ১:৩১২, ২:৪১৭ # ফাতহুল মুলহিম, ৬:৫২৫ # ফাতাওয়া শামী, ২:২৪৫ # আহসানুল ফাতাওয়া ১:৩৭৪]