শুধু দাওয়াত ও তাবলীগের দ্বারা আত্নশুদ্ধি হাসিল হয় কি?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৫ জানুয়ারি, ২০২৬আত্মশুদ্ধি, দাওয়াত ও তাবলীগ, উলামা তোলাবা, বিবিধ

প্রশ্ন

কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহওয়ালার সাথে ইসলাহী সম্পর্ক না রেখে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করতে থাকে তথা চিল্লা বা ১সাল লাগায় তাহলে এর দ্বারা তার আত্নশুদ্ধি হাসিল হবে কি না?

উত্তর

হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. প্রতিষ্ঠিত প্রচলিত দাওয়াত ও তাবলীগ মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার দিকে ধাবিত করে, মানুষের মধ্যে ঈমান আমল, তায়াক্কুল ইত্যাদি গুনাবলী অর্জন হয়, মুজাহাদা করার যোগ্যতা হাসিল হয়, দ্বীনী কাজ করার জযবা জন্মে, আরও অনেক ফায়দা রয়েছে, তবে এর এই অর্থ নয় যে, তাবলীগী মেহনত করলে দ্বীনের অন্য কোন মেহনত করার প্রয়োজন হবে না, বরং দাওয়াতের মেহনত করার পর যাদের কিরা‘আত সহীহ নয় তারা ক্বারী সাহেবদের নিকট গিয়ে সূরা-কিরা‘আত সহীহ করে নিবে, উলামা মুফতীদের নিকট গিয়ে মাসাইল জেনে নিবে, এবং আল্লাহওয়ালাদের নিকট যেয়ে আত্নশুদ্ধি করবে, তা হলে তার দ্বীনদারী পরিপূর্ন হবে। তাবলীগের তৃতীয় সিফাত ইলম ও যিকির এবং তাসহীহে নিয়ত দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে।

আল্লাহ তা‘আলা দ্বীনের হিফাযতের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করেছেন। এর প্রত্যেকটার অবদানও খিদমত ভিন্ন ভিন্ন। এর কোন একটার দ্বারা দ্বীনের সকল লাইনের খিদমত আনজাম দেয়া সম্ভব নয়। সুতরাং মসজিদ-মাদরাসা-মক্তব খানকাহ, দাওয়াত, জিহাদ ইরশাদ এ সবই দ্বীনের এক লাইনের মেহনত, এর কোনটাকে বন্ধ করা বা বাদ দেয়া সম্ভব নয়।

প্রচালিত তাবলীগ জামা‘আতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. নিজেও হযরত মুফতী রশীদ আহমদ গাংগুহীর খানকাহে থেকে নিজ আত্নার পরিশুদ্ধি করিয়েছেন এবং হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর বিশেষ যে কয়জন মুরুব্বী ছিলেন যথা, হযরত গাংগুহী সাহেব রহ. হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ., ও হযরত মাওলানা খললী আহমদ সাহরানপূরী রহ., এসকলেই শাইখের দরবারে নিজেকে মিটিয়ে আত্নশুদ্ধি করিয়েছেন, এর পর আল্লাহ তা‘আলা তাকে দুনিয়াতে চমকিয়েছেন।

তাছাড়া শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া রহ. যার লিখিত কিতাবাদীর মাধ্যমে তাবলীগ জামা‘আতের এবং মুসলিম মিল্লাতের ব্যাপক ফায়দা হচ্ছে, তিনিও আল্লাহওয়ালাদের দরবারে গিয়ে আত্নার পরিশুদ্ধি করিয়েছেন। আমাদের বাংলাদেশের তাবলীগ জামা‘আতের যিনি সর্বপ্রথম আমীর ছিলেন মরহুম হযরত মাওলানা আব্দুল আযীয রহ. তিনিও হযরত যাকারিয়া রহ.-এর দরবারে নিজেকে সোপর্দ করে আত্নশুদ্ধি করিয়েছেন এবং তিনি শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া রহ. এর বিশিষট খলীফাও ছিলেন। শুধু দাওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যমেই যদি আত্নশুদ্ধি অর্জিত হয়ে যেত তাহলে তাবলীগের উপরোল্লেখিত বড় বড় মুরব্বীগনের নিজেদের আত্নার পরিশুদ্ধির জন্য আল্লাহওয়ালাদের দরবারে যাওয়ার কোন প্রয়োজন হত না। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করার ক্ষেত্রে যখন বিভিন্ন দেশ ঘোরা হয় বা কারোর দাওয়াতে প্রচুর লোক আল্লাহর রাস্থায় বের হয়ে পড়ে তখন নিজের মধ্যে আত্নগর্ব বা অহংকার চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিজের আমল বরবাদ হওয়ার কারন হয়ে দাড়াতে পারে।

সুতরাং দাওয়াতের পাশাপাশি নিজের আমলের হিফাযতের লক্ষ্যে অন্তরের রোগসমূহেরও সংশোধন করতে হবে, যা আল্লাহওয়ালার বাতানো পদ্ধতি ছাড়া কোন অবস্থায় সম্ভব নয়। দীর্ঘ ১৪০০ বছর এভাবেই আত্নশুদ্ধির কাজ চলে আসছে। [প্রমাণঃ সূরা আলে ইমরান ১৬৪, মিশকাত শরীফ ২/৪৩৩]