সংসার ছোট রাখার জন্য সন্তান বন্ধ রাখা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক, সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

আমাদের দেশে দেখা যায় যে, প্রায় বাড়ীতে পরিবার ছোট রাখার জন্য অনেকে সন্তান বন্ধ রাখেন। কুরআন-হাদীসের আলোকে এটা ঠিক কিনা ও নবী করীম ﷺ-এর আমলে জন্মনিয়ন্ত্রণ ছিল কিনা?

টেলিভিশনের মধ্যে অনেক মাওলানা সাহেবরা বলেন যে- জন্মনিয়ন্ত্রণ জায়েয-এ ব্যাপারে কুরআন-হাদীসের রায় কি?

উত্তর

আমাদের দেশের প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যেমন অপারেশন, বড়ি ও কনডম ইতাদি পদ্ধতি যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভাব-অনটনের ভয়ে এবং ছোট ও সুখী পরিবার গড়ার লক্ষ্যেই হয়ে থাকে, যা কুরআন-হাদীসের সরাসরি বিরোধিতা এবং “আল্লাহই সমস্ত মাখলুকের রিযিক দাতা” -এ বিশ্বাসের চরম পরিপন্হী। সুতরাং, এই উদ্দেশ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম।

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “তোমরা দরিদ্রতার কারণে সন্তানদেরকে মেরে ফেলো না। আমি তোমাদের রিযিক দেই” অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে- “তোমরা অভাবের ভয়ে সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমি তাদের রিযিকের ব্যবস্থা করব। তোমাদের রিযিকেরও ব্যবস্থা করব।”

তবে হ্যাঁ স্ত্রীর রোগ-ব্যাধি ইত্যাদির কারণে সাময়িক বন্ধ রাখার মাসআলা কোন মুফতী থেকে বিস্তারিত হালত বলে জেনে নিবেন।

নবী করীম ﷺ-এর যামানায় বর্তমান প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছিল না। তবে বিভিন্ন হাদীসের মধ্যে “আযলের” কথা উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু আযল ও বর্তমান জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনেক দিক দিয়ে পার্থক্য রাখে। যেমন আযল কোন নিশ্চিত পদ্ধতি নয় অপর দিকে প্রচলিত প্রথা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিশ্চিত পন্থা। আযল ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে করা হতো। কিন্তু বর্তমান পদ্ধতি, ছোট ও সুখী পরিবার গড়ার স্বপ্নে করা হয় যা একেবারে অমূলক ও নাজায়েয। (আযল বলা হয়-সহবাস অবস্থায় নিস্খলনের মুহূর্তে বীর্য বাহিরে ফেলা।)

আযলকেও নবী ﷺ পছন্দ করেননি এবং উলামায়ে কিরাম অপছন্দনীয় বলেছেন। তবে কেউ ব্যক্তিগত বিশেষ উযরে স্ত্রীর অনুমতিক্রমে আযল করতে পারে। আমাদের দেশের রেডিও-টেলিভিশনে জন্মনিয়ন্ত্রণের স্বপক্ষে তথাকথিত কিছু সংখ্যক নামধারী মাওলানা সাহেবরা পাইকারী ভাবে যে জন্মনিয়ন্ত্রণ জায়েয হওয়ার পক্ষে আলোচনা করেন, তার কোন অস্তিত্বই কুরআন-হাদীসে নেই। তারা অবশ্যই দুনিয়ার কিছু মাল উপার্জনের জন্য মহল বিশেষের মর্জি মাফিক কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে থাকেন। প্রত্যেক যমানায় এ ধরনের কিছু আলেম-উলামা ছিলেন যাদেরকে উলামায়ে সু বা দুনিয়াদার আলেম বলা হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ধরনের আলেমদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। সুতরাং, আপনারা তাদের কথায় কর্ণপাত করবেন না।

মূলতঃ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কাফির-মুশরিকরা মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ভয়ে এবং মুসলিম সমাজে যিনা-ব্যভিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে মুসলমানদেরকে আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে আল্লাহর গযবে ফেলার উদ্দেশে চালু করেছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের দেশের গণতন্ত্রবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ কথাটা বুঝার মত লোক নেই।এ সুযোগে অমুসলিমদের (ফরমায়েশ) হুকুম ও চাপের মুখে আমাদের দেশের প্রত্যেক সরকারের ছত্রছায়ায় এটা রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার করা হয়ে থাকে এবং এর জন্য কিছু লোভী দুনিয়াদার মৌলভীও তারা ভাড়া করে এনে কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে এমন হারাম পদ্ধতি জায়েয করার অপচেষ্টা চালায়। সুতরাং, সাধারণ মুসলমান ভাইদের জন্য এসব দুনিয়াদার মৌলভী থেকে দূরে থাকা ঈমানী দায়িত্ব।

সংসার ছোট রাখার জন্য সন্তান বন্ধ রাখা | ইসলামী যিন্দেগী