কি ধরনের বই পড়া উচিত?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৬ জানুয়ারি, ২০২৬উলামা তোলাবা, বিবিধ

প্রশ্ন

বাজারে বিভিন্ন ধরনের ইসলামী বই পাওয়া যায়, যেমন, বেহেশতি যেওর, তরীকুল ইসলাম, মাজমু‘আয়ে ওযায়েফ, মাকসুদুল মু’মিনীন, আমলে নাজাত, দাকায়েকুল আখবার, সুন্নাত বিদ’আত, বিষাদ সিন্ধু, মা’রেফাতের ভেদতত্ব, খেলাফত ও মুলুকিয়াত, আহকামুল মাজার ইত্যাদি। এগুলো আমরা পড়তে পারি কিনা?

উত্তর

প্রত্যেক মুসলমানদের এমন ধরনের কিতাব পাঠ করা উচিত, যা ঈমান ও আমলের জন্য সাহায়ক হয়। সুতরাং কোন কিতাব পাঠ করতে হলে, উক্ত কিতাবের লেখক এবং লিখিত কিতাব সম্পর্কে কোন হক্কানী আলেমের পরামর্শ নেয়া জরুরী। কেননা বর্তমানে বাজারে হরেক রকমের কিতাব ইসলামী লেভেলে চালু রয়েছে। অথচ সেগুলোর মধ্যে প্রচুর শরী‘আত পরিপন্থী কথা বিদ্যমান আছে। আর সাধারণ শিক্ষিত লোকেরা এসব কিতাবের ভুল শুদ্ধের মধ্যে তারতম্য করতে পারেন না। যার কারনে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। বহু লোক দ্বীনের সঠিক রাস্তা থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। প্রশ্নের উল্লেখিত কিতাবগুলোর মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. লিখিত কিতাব বেহেস্তী যেওর ছাড়া আর বাকি কিতাবগুলোতে প্রচুর ভুল রয়েছে। কোন কোন কিতাব নির্ভরযোগ্য বুযুর্গদের নামে চলছে। কিন্তু বিষয়বস্তু দেখলে বুঝা যায়, পরবর্তী লোকেরা তার মধ্যে এমন কথা অন্তর্ভুক্ত করেছে যা সহীহ নয়। তাই উক্ত কিতাবসমূহ পড়া থেকে বিরত সকলের জন্য একান্ত জরুরী। অন্যথায় শিরিক বিদ‘আতে জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাওয়ার প্রবল আশংকা রয়েছে। সেজন্য যে কোন কিতাব পাঠ করা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই ঝুকিপূর্ন। তবে বেহেশতি যেওর বা থানভী রহ.-এর লিখিত অন্য যে কোন কিতাব নির্দিধায় পড়তে পারেন। যেমন, দ্বীনের গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য ‘হায়াতুল মুসলিমীন’ ‘সুখ-দুঃখ কেন?’ ঈমান আকীদা সহীহ করার জন্য ‘ফুরুউল ঈমান’ ইবাদত দুরস্ত করার জন্য ‘তা’লীমুদ্দীন’, রিযিক হালাল রাখার জন্য ‘সাফাইয়ে মু‘আমালত’, বান্দার হক আদায় করার জন্য ‘হুককুল ইসলাম’ ও ‘আদাবুল মু‘আশারাত’ আখলাক বা আত্ন শুদ্ধির জন্য ‘কসদুস সাবীল’ ও ইমাম গাযযালী রহ.-এর ‘তাবলীগে দ্বীন (এর দ্বিতীয় খন্ড)’ প্রভৃতি।

কি ধরনের বই পড়া উচিত? | ইসলামী যিন্দেগী