ঝগড়ার সময় তিন তালাক দেয়া
প্রশ্ন
আজ থেকে ৫ বছর আগে আমার স্বামী আমাকে বিয়ে করে। আজ থেকে কয়েক মাস আগে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমাকে বলেছে- “আমি তোকে এক তালাক দিয়ে দিলাম, তুই বেরিয়ে যা। তোর সঙ্গে এখন আর আমার কোন সম্পর্ক নেই।” একটু থেমে বললঃ “যা তোকে দুই তালাক দিয়ে দিলাম। তোর মুখ দেখাও পাপ, তুই আমার কেউ না।” যা “তোকে তিন তালাক দিয়ে দিলাম। তোকে মুক্ত করে দিলাম, তুই যে দিকে খুশি চলে যা।” এরপর সে চুপচাপ ঘরে ফিরে আসে। একদিন পর বলে-।“রাগের মাথায় কি সব বলেছি, ঐ সব নিয়ে মন খারাপ করো না। এমনটি আর হবে না। আমাকে ক্ষমা করে দাও। এরপর আমরা স্বাভাবিক জীবন-যাপন করি। কিন্তু কিছু থেকে কিছু হলে সে বলে- তোকে তো কবেই তালাক দিয়ে দিয়েছি। তুই এখনো থাকিস কেন? তুই যাসনা কেন? তুই চলে গিয়ে আমাকে মুক্তি দে।” ইত্যাদি ইত্যাদি।
এখন তার সঙ্গে আমার বৈবাহিক সম্পর্ক আছে কি-না? কিংবা তালাক হয়ে থাকলে তা বৈধ করার পন্থা কি? আমাদের আড়াই বছরের ১টি পুত্র সন্তানও রয়েছে।
উত্তর
বর্ণনা অনুযায়ী আপনার উপর তিন তালাক পতিত হওয়ায় আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক তখনই সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে। উক্ত ঘটনার পর থেকে স্বামীর সঙ্গে আপনার দেখা-সাক্ষাৎ, কথাবার্তা সব কিছুই হারাম হয়েছে। উক্ত তিন তালাকের ঘটনার পরই আপনার পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরী ছিল। কেননা- এখন সে আর আপনার বৈধ স্বামী নয়। আপনি তার স্ত্রী নন। উভয় উভয়ের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। এখন শর‘ঈ হালালা ব্যতীত তার সঙ্গে আপনার ঘর-সংসার করার কোন পথ নেই। শর‘ঈ হালালার সুরতঃ স্বামীর সঙ্গে সর্বশেষ দৈহিক মিলনের পর ইদ্দত (তিন ঋতু) পালন শেষ করে, নতুন করে অন্য কারো সাথে আপনার বিবাহ হতে হবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে যৌন মিলনও হতে হবে। তারপর দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দিলে বা তিনি মারা গেলে, তার তালাক বা মৃত্যুর ইদ্দত পালন করার পর আপনি ও প্রথম স্বামী উভয়ের সম্মতিতে বিবাহের সকল শর্তসহ নতুন করে বিবাহ করলে প্রথম স্বামীর সাথে আপনার ঘর-সংসার করা বৈধ হবে। তাছাড়া তার সঙ্গে ঘর-সংসার করার আর কোন বৈধ পন্থা নেই। [প্রমাণঃ আদদুররুল মুখতার ৩:৫২২-২৩ #ফাতওয়া দারুল উলূম ৯:২৯০, ১০:৩৪৬]