সংক্ষিপ্ত নাম রাখা
প্রশ্ন
আমাদের দেশে অনেক নামের অংশ হিসাবে ইংরেজী অক্ষর ব্যবহার করেন যেমন, এম এ ফারুক। আবার অনেকে ‘মুহাম্মদ’ শব্দকে ‘মোঃ’ লিখে থাকেন। আবার অনেকে নামকে পরিষ্কারভাবে দুই তিন অংশ করে লেখেন, যেমন-মুহাম্মদ উল্লাহ, আনওয়ার-উল-ইসলাম ইত্যাদি। আবার কেউ কেউ এমন বাংলা নাম রাখেন, যা শুনলে বুঝাই দুস্কর যে, লোকটি কোন ধর্মের, যেমন, কুসুম, দুলাল, চাঁদ, বাবু, মানিক, সেন্টু, মন্টু ইত্যাদি। এসব ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি?
উত্তর
হাদীস শরীফে এসেছে, “ তোমাদের কারো সন্তান হলে, তার জন্য সুন্দর নাম রাখ”। [মিশকাত ২:৪০৮]
সুন্দর নাম কাকে বলে, তা অপর এক হাদীসে এসেছে-“ আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান সবচেয়ে সুন্দর নাম”। [বুখারী ২:৯১৪, মিশকাত ২:৪০৭]
এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, আল্লাহর নামের শুরুতে আব্দ শব্দ যোগ করে নাম রাখা সবচেয়ে উত্তম। তারপর নবী-ওলীদের নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা ভাল।
নাম সুন্দর রাখার একটা বড় ফায়িদা এই যে, নামের একটা প্রভাব প্রতিক্রিয়া সন্তানের উপর পড়ে। ভাল নাম হলে তার চরিত্রও ভাল হয় এবং নাম খারাপ হলে, তার চরিত্রের উপরও এর খারাপ প্রভাব পড়ে।
ইংরেজী নাম বা নামের সাথে ইংরেজী অক্ষর যোগ করলে, এটা আর ভাল নাম থাকে না। কারন, হাশরের ময়দানে প্রত্যেককে তার নিজের নামের সাথে ডাকা হবে। [মিশকাত ২:৪০৮] যাদের নামের সাথে ইংরেজী যোগ আছে, তখন তারা শরী‘আতের বরখেলাপ করার দরুন তখন কত লজ্জিত হবেন এবং এ ধরনের ইংরেজী নামের কারনে আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর কতটুকু নারাজ হবেন, তা বলা বাহুল্য। নামের সাথে ইংরেজী অক্ষর যোগ করা বা কথায় কথায় বিনা দরকারে ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করা এবং ইংরেজদের মত বেশ-ভূষা ইখতিয়ার করা, এসবই ইংরেজ প্রীতির বহিঃপ্রকাশ, যা কোন মুসলমানের জন্য সাজে না। কারন, নবী করীম ﷺ ইংরেজ তথা ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও বিধর্মীদের রীতি-নীতির বিরুদ্ধাচারন করতে বলেছেন এবং তাদেরকে অনুকরন ও অনুসরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন, “তোমরা (চাল-চলন ও কথা- বার্তায়) ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের বিরুদ্ধাচারন কর”। [মুসলিম শরীফ ১:১২৮; কানযুল উম্মাল ৭:৫৩৫] সুতরাং, মুসলমানদের ঈমানের দাবী অনুযায়ী এ প্রবণতা পরিত্যাগ করে ইসলামী নাম রাখা ও ব্যবহার করা উচিত।
“মুহাম্মদ” নামটি আমাদের নবী করীম ﷺ- এর নাম। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক খায়ের ও বরকতের নিয়্যতে নিজের নামের সাথে তা মিলিয়ে রাখে। কিন্তু নামটি সংক্ষেপ করতে গেলে অর্থবিহীন বা অর্থ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারনে এটা নামের সাথে রাখতে হলে, পূর্নভাবে লিখতে হবে। আর যদি কেউ এটা নামের সাথে না রাখতে চায়, তাদের জন্য না রাখার অনুমতি আছে।
আর বর্তমানে যেভাবে নাম লেখার প্রচলন শুরু হয়েছে, আরবী গ্রামার হিসাবে এটা সম্পূর্ন ভুল এবং কোন কোন ক্ষেত্রে গুনাহের আশংকা আছে। যেমন, সহীহ হলোঃ “মুহাম্মদুল্লাহ”। এটা আলাদাভাবে লিখতে হয়, মুহাম্মদ আল্লাহ। উল্লাহ আরবী ভাষায় গ্রামার হিসাবে কোন ভাবেই সহীহ হতে পারে না। বরং আল্লাহর নাম বিগড়ানোর শামিল। দ্বিতীয় নামটি সহীহভাবে লিখলে হবে, আনওয়ারুল ইসলাম। এটা পৃথক করে লিখলে হবে আনওয়ার-আল-ইসলাম। উল ইসলাম কোন ভাবেই শুদ্ধ হবে না। আমরা একদিকে আধুনিকতার পাগল, অন্যদিকে, আরবী গ্রামার সম্বন্ধে ভাল ধারণা নেই। যে কারনে মারাত্নক ভুলসমূহে সমাজে চালু হয়ে গেছে।
বর্তমান যামানার আরেক প্রবণতা হচ্ছে, বাংলা নাম রাখা। যেমন, বিপ্লব, সংগ্রাম, শুভ রহমান ইত্যাদি। এ সমস্ত নাম ও ‘হাদীসে যে ভাল নাম রাখতে বলা হয়েছে তার মধ্যে পড়ে না’। সুতরাং, সে সব পিতাকে এ ধরনের নাম রাখার জন্য আল্লাহর দরবারে জওয়াবদিহী করতে হবে। কোন হিন্দু বা অমুসলিম মুসলমানদের খুশী করার জন্য তাদের নিয়ম-নীতির মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন ঘটাতে রাজী নয়। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে ঈমান আমলের কদর না থাকায় এবং দ্বীনী গায়রত না থাকায় তারা নিজেকে অসাম্প্রদায়িক বা অতি বাঙ্গালী প্রমান করার এ ধরনের খিচুরী মার্কা নামের প্রথা চালু করেছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে তা অশোভনীয় ও বর্জনীয়। [প্রমাণঃ মিশকাত ২:৪০৭]