খৃষ্টান মেয়ের সাথে মুসলমানের বিবাহ
প্রশ্ন
জনৈক মুসলমান ব্যক্তি কোন এক খৃষ্টান মহিলাকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ করেন। উল্লেখ্য যে, উক্ত মহিলা খৃষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয় নাই। শরী‘আতের দৃষ্টিতে তাদের বিবাহ বৈধ হয়েছে কি-না? যদি তাদের উক্ত বিবাহ বৈধ না হয়ে থাকে, তবে তাদের মেলা-মেশা সম্পর্কে শরী‘আতের হুকুম কি এবং সমাজের করণীয় কি?
উত্তর
এ কথা ঠিক যে, ইসলামী শরী‘আতে আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদী ও নাসারা (খৃষ্টান) মহিলাকে মুসলমান পুরুষের জন্য বিবাহ করা জায়িয আছে। কিন্তু যে কোন ইয়হুদী-খৃষ্টান মহিলা আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তাদেরকে বিবাহ করাও জায়িয নয়। বহু ইয়াহুদী খ্রিষ্টান রয়েছে যারা আদমশুমারীতে ইয়াহুদী খ্রিষ্টান। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মূসা আ. বা ঈসা আ. কে মানে না এবং তাদের শরী‘আত মানে না। তারা তাদের ধর্মের কোন তোয়াক্কা করে না। শুধু নামকা-ওয়াস্তে ইয়াহুদী বা খ্রিষ্টান। এ ধরনের মহিলারা আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। এবং কোন মুসলমানের জন্য এ ধরনের মহিলাকে বিবাহ করা জায়েয নয়। বিবাহ করলেও সে বিবাহ কখনো সহীহ হবে না। এবং এতে ঐ মুসলমান ব্যক্তির দ্বীন-ঈমান সব কিছু বরবাদ হয়ে মুরতাদ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রকট। বর্তমান যমানায় অধিকাংশ ইয়াহুদী/খৃষ্টান মহিলার অবস্থাই এরূপ, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ্য করা হয়েছে।
শরী‘আতে যে আহলে কিতাব মহিলাকে বিবাহ করা জায়িয করেছে, তার উদ্দেশ্য হলো মহিলাটি বাস্তবিকপক্ষ মূসা আ. বা ঈসা আ.-কে নবী বলে মনে প্রাণে স্বীকার করে তাদের দ্বীনকে সহীহ মনে করে এবং তা মানতে ও তার উপর চলতে সব সময় চেষ্টা করে। এ ধরনের মহিলারা যেহেতু একটা আসমানী দ্বীনের উপর আছে, যা কোন একসময় সহীহ ছিল এবং তার ধর্মের কিতাবের সাথে এবং কুরআনের সাথে অনেকটা মিল আছে। সুতরাং, সেরূপ মহিলা যদি কোন মুসলমানের সংস্পর্শে আসে এবং ইসলামকে নিকট থেকে দেখার সুযোগ পায়, তাহলে আশা করা যায় যে, সে ইসলাম কবুল করে নিবে এবং তার দ্বারা স্বামীর দ্বীন ইসলামের কোন ক্ষতির আশংকা নেই।
তবে এ ধরনের আহলে কিতাব মহিলা বর্তমানে পাওয়া দুস্কর। সুতরাং, যে কোন আহলে কিতাব মহিলাকে কিতাবী মহিলা মনে করে বিবাহ করা নিজের দীন ঈমান ধ্বংসের শামিল। সুতরাং কোন মুসলমানের জন্য এই ধরনের মেয়েকে বিবাহ করা জায়েয নাই।
বিবাহ সহীহ না হওয়ায় উক্ত মহিলা তার জন্য হালাল হবে না। সুতরাং তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ মেলামেশা সবই যিনা ও হারাম হবে এবং সর্বদা হারামের মধ্যে লিপ্ত থাকার দরুন ঈমান কমজোর হতে হতে শেষ পর্যন্ত ঈমান হারা হয়ে মারা যাওয়ার পরিণতি কত ভয়াবহ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ ব্যাপারে সমাজের দ্বীনী ও ঈমানী দ্বায়িত্ব হচ্ছে, উক্ত মহিলাকে ও বিবাহকারী মুসলমান পুরুষকে প্রথমে নসীহত করবে এবং এ বিবাহের ক্ষতি এবং আল্লাহর নাফরমানী সম্পর্কে অবগত করে, এ মহিলাকে পরিত্যাগ করে আল্লাহর দরবারে খালিস দিলে তাওবা করতে বলবে। লোকটি যদি সমাজের কথা মেনে নেয়, তাহলে তার সাথে সমাজের লোকদের আচরণ ঠিক থাকবে।
আর যদি ঐ ব্যক্তি এ নসীহত অমান্য করে তাহলে সমাজ থেকে তাকে বয়কট করতে হবে। তার সাথে কোনরূপ সষ্পর্ক রাখা, তার বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়া করা, তার সাথে সালাম-কালাম করা এবং তার সাথে লেন-দেনসহ সব ধরণের আচরণ তার তাওবা করা পর্যন্ত বন্ধ করতে হবে। যারা নাফরমান ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক রাখবে, তারাও গুনাহগার হবে।
তবে উক্ত মহিলা যদি মুসলমান হয়ে যায়, তবে বিবাহ দোহরিয়ে তাকে রাখতে পারবে।
[প্রমাণঃ মা’আরিফুল কুরআন ১:৫৩৮ #ফাতওয়ায়ে রহীমিয়া ৬:১৭৬ #ফাতওয়ায়ে দারুল উলূম ২৭৭ #জাওয়াহিরুল ফিকহ ২:৩৭৮, ফাতওয়া শামী ৩:৪৫]