হস্তমৈথুন ও সমকামিতার শাস্তি
প্রশ্ন
যিনা একটি জঘন্য কবীরা গুনাহ, কিন্তু হস্তমৈথুন ও সমকামিতা কি এ পর্যায়ের গুনাহ? এসব অন্যায়ের শাস্তি কি?
উত্তর
জবাবঃ হস্তমৈথুন হারাম ও লা’নতের যোগ্য। সমকামিতা এটা যিনা থেকেও, মারাত্মক অন্যায়। এই খবীস কাজ লূত আ. এর কওমের পাপিষ্ঠ লোক থেকে শুরু হয়েছে। জানোয়ারের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ জানোয়ারও এ কাজ থেকে বাঁচতে চায় এবং এটাকে খারাপ মনে করে। মহান আল্লাহ লূত আ. এর দুরাচার কওমের শাস্তি স্বরূপ বস্তিকে উপরে উঠিয়ে উল্টিয়ে ফেলেন। অতঃপর পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করেন। হুযূর ﷺ এ অপকর্ম জড়িত উভয়কে কতল করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য এক হাদিসে পাথর মেরে উভয়কে খতম করার নির্দেশ এসেছে। একবার হযরত আবু বকর রা. এর দরবারে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এ রকম খবীস ব্যক্তির অবস্থা লিখে শাস্তির দরখাস্ত করলে, আবু বকর রা. তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়ার ফায়সালা দেন।
সমকামিতার ভয়াবহতার কারণে এর শাস্তি নিয়ে সাহবাগণের রা. মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ বলেছেন, আগুনে পুড়িয়ে মারতে হবে, কেউ বলেছেন, উঁচু স্থান থেকে ফেলে দিয়ে মারতে হবে; আবার বলেছেন, দেয়ালের মত কোন কিছুর পার্শ্বে রেখে ঐ দেয়াল তার উপর ফেলে তাকে খতম করতে হবে। কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ এ জঘন্য অপকর্মের কল্পনাও করতে পারে না। হস্তমৈথুন ও সমকামিতা দ্বারা পুরুষত্ব অল্পদিনে একবারেই নষ্ট হয়ে যায় এবং সমকামিতা দ্বারা এইডস এর ন্যায় এমন মারত্মক রোগ সৃষ্টি হয়, যার দ্বারা কোন চিকিৎসা নেই।
উল্লেখ্য, শর‘ঈ শাস্তিসমূহ জারী করার অধিকার একমাত্র ইসলামী হুকুমতের রয়েছে, জনসাধারণের বা ব্যক্তি বিশেষের ঐ সকল শাস্তি জারী করার কোন অধিকার নেই। ইসলামী হুকুমত না থাকার ক্ষেত্রে সমাজ থেকে নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা ইত্যাদি বন্ধ করার জন্য শরী‘আতে তা’যীর (তুলনামূলক হালকা শাস্তি) এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উলামায়ে কিরামের পরামর্শে জারী করতে পারেন। [প্রমাণঃ রদ্দুল মুহতার ৪:২৭, আহসানুল ফাতাওয়া ৫:৫৫১-১২]