সামর্থ্যের অধিক মহরানা ধার্য করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৬ জানুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

(১) সামার্থ্য না থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে সামার্থের উর্ধ্বে মহর ধার্য করে, যা ছেলের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। অনেক সময় পিতা-মাতা নিজেদের পক্ষ থেকেই ছেলের অজান্তেই মহরানা ধার্য করে ফেলেন। এটা সামাজিকতার মত হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে শরী‘আতের হুকুম কি ?

(২) মহরানা ধার্য হয়ে গেলে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী মিলে মহরানা কমানো যাবে কি?

(৩) শুধু সামাজিকতার কারণে এরকম প্রথার মহরানা ধার্য করে বিবাহ করার কি হুকুম?

(৪) পিতা-মাতার ধার্যকৃত মহরানার টাকা ছেলেকে পরিশোধ করতে হবে কি?

(৫) যদি ছেলের সামর্থ্য না থাকে, তবে এক্ষেত্রে শরী‘আতের ফায়সালা কি ?

উত্তর

(১) উভয় পক্ষ মিলে যে মহর নির্ধারিত করে এবং বিবাহের সময় উল্লেখ্য করা হয়, স্বামীর উপর তা আদায় করা জরুরী। কেননা, নির্ধারিত মহরের উপর স্বামী রাযী না থাকলে, তার সম্মুখে যখন উল্লেখ করা হয়, তখন তিনি অসম্মতি প্রকাশ করতে পারতেন। যেহেতু অসম্মতি জ্ঞাপন করেননি, তাই এতে তার সম্মতিই প্রকাশ পায়। বেশী মহর নির্ধারিত করা শরী‘আতে জায়িয আছে। তবে মহর কম হওয়া উত্তম, যাতে আদায় করা সহজ ও সম্ভব হয়। তাই অভিভাবকদের এ ব্যাপারে দৃষ্টি রাখা উচিত। সামর্থ্যের কথা বিবেচনা না করে প্রথা অনুযায়ী অধিক মহর ধার্য করা ঠিক নয়। আদায় না করার ইচ্ছা নিয়ে এরূপ করলে গুনাহ হবে। এবং স্ত্রীর সাথে মেলামেশাও জায়িয হবে না।

[প্রমাণঃ তাতারখানিয়া ৩:৪২:৪৩ #ফাতওয়া দারুল উলূম ৮:২৫৮:৬৩ #কানযুল উম্মাল ১৬:৩২২]

(২) স্বামী-স্ত্রী মিলে উভয় রাযী হয়ে নির্ধারিত মহর থেকে কমাতে পারবে।

[প্রমাণঃ ফাতওয়া আলমগীরী ১:৩১৩ #হিদায়া ২:৩২৫]

তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, স্ত্রী যেন অন্তরের খুশীর সাথে মাফ করে দেয়, কোনরূপ চাপ ও হুমকীর কারণে না হয়।

(৩) সামাজিকতার কারণে যে মহর ধার্য করে বিবাহ করা হয়, এ মহরও আদায় করা স্বামীর উপর জরুরী।

[প্রমাণঃ ফাতওয়া দারুল উলূম ৮:৩১০]

(৪) পিতা-মাতার ধার্যকৃত মহরও ছেলেকে আদায় করতে হবে। কারণ এ মহর জানার পর ছেলে অসম্মতি প্রকাশ করেনি। তবে পিতা যদি দায়িত্বে নেন, তাহলে পিতার নিকটও দাবী করা যাবে।

[প্রমাণঃ ফাতওয়া তাতারখানিয়া ৩:৪২ # দারুল উলূম ৮:২৬৫]

(৫) যেহেতু পিতা ছেলের অনুমতি ও সামর্থ্যের খেয়াল না করে কম মহর নির্ধারিত না করে অধিক মহর নির্ধারিত করেছে সুতরাং সেই মহর আদায় করতে স্বামীর সামর্থ্য না থাকলে, যতটুকু সম্ভব ততটুকু আদায় করবে। বাকীটুকু পিতার নিকট থেকে চেয়ে নিবে। কারণ ছেলের কাছে জিজ্ঞাসা না করার দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, এ ব্যপারে তিনিও যিম্মাদারী নিবেন। তিনিও অপারগ হলে, হিকমতের সাথে চাপ সৃষ্টি না করে সহীহভাবে স্ত্রী থেকে মাফ করিয়ে নিবে। যার ব্যাখ্যা আগে দেয়া হয়েছে।

সামর্থ্যের অধিক মহরানা ধার্য করা | ইসলামী যিন্দেগী