অবৈধ ভালবাসা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

আমি একজন সরকারী চাকুরীজীবী মানুষ, আমি এক মেয়েকে ভালোবাসতাম। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ আমি তাকে ভালোবাসতাম। কিন্তু হঠাৎ তার বিয়ে হয়ে যায় মা-বাবার পছন্দে। বর্তমানে সে তার স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছে কিন্তু আমি এখনো বিয়ে করি নাই। আমি তার চিন্তা করতে করতে দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছি। সে এখনো আমার কাছে আসতে চায়। আমি আপনাদের সাজেশন এর অপেক্ষায় আছি।

উত্তর

শরী‘আতের আলোকে বিবাহের আগে বেগানা কোন মেয়েকে ভালবাসা সম্পূর্ণ অবৈধ ও হারাম। এর মাধ্যমে বেগানা নারী-পুরুষের পারষ্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ, প্রেমালাপ, প্রেমনিবেদন ও প্রেমপত্র বিনিময় ইত্যাদি যা ঘটে থাকে সবই নাজায়েয ও হারাম। যদি দেখা-সাক্ষাৎ কথাবার্তা নাও করে তবুও অন্ততপক্ষে প্রেমিক-প্রেমিকা পরস্পরে একে অপরকে মনে মনে কল্পনা করে মনে তৃপ্তি অনুভব করে। এতে অন্তরের যিনা হয় যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম।

সুতরাং, আপনার জন্য দীর্ঘ কয়েক বছর পর্যন্ত উক্ত মেয়ের সাথে ভালবাসা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নাজায়েয হয়েছে। বর্তমানে ঐ মেয়েটি স্বামীর ঘরে চলে গেছে অথচ এখনো আপনি তার চিন্তায় ব্যস্ত। দিন দিন তার চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছেন। এটা আসলে আপনার এক প্রকার বোকামীও বটে।

অন্যের বিবাহ থেকে আপনার প্রেমের টানে তার ফিরে আসা এবং আপনার জন্য তাকে বিয়ে করার চিন্তাভাবনা করা সম্পূর্ণরূপে হারাম হবে। বরং এ মুহুর্তে আপনার উচিৎ কালবিলম্ব না করে দীনদার কোন মহিলাকে বিয়ে করা। এতে আপনার পেরেশানী লাঘব হবে ইনশাল্লাহ। আপনি ইচ্ছাপূর্বক কখনো তার কথা মনে আনবেন না। আর যখনই সে মেয়ের কথা মনে পড়ে নিমোক্ত দু‘আটি কয়েকবার পড়ে নিবেন।

“হে আল্লাহ! আমার অন্তরের কু-মন্ত্রণাকে আপনার ভয় ও যিকরে রুপান্তরিত করুন। এবং আমার সাহস ও ইচ্ছাকে আপনার ভালবাসা ও মর্জির দিকে ধাবিত করুন।

সাথে সাথে আগের নাজায়েয প্রেম ও তৎসংশ্লিষ্ট সকল গুনাহ থেকে খাঁটি মনে তাওবা করুন। [প্রমাণঃ বাওয়াদিরুন নাওয়াদির, ৭০০ #মুসলিম ২:৩৩৬]

অবৈধ ভালবাসা | ইসলামী যিন্দেগী