মহর আদায় করার সামর্থ্য না থাকলে
প্রশ্ন
আমার পাশের গ্রামে আমার এক বন্ধু বিয়ে করে। বিয়েতে তার একান্ত ইচ্ছা ছিল মহরে ফাতেমী ধার্য করা। কিন্তু তার একবারে পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই। বিয়ের আগে কনের মৌখিক সমর্থনও পেয়েছিল, কিন্তু ছেলের বাবা ও মেয়ের বাবা পরামর্শক্রমে ১ লক্ষ টাকা মহর ধার্য করেন। বিয়ে পড়ানোর সময় ছেলের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মুরুব্বীদের চাপে তা মেনে নেয়। কিন্তু তা পরিশোধের সামর্থ্য তার নেই। এদিকে কাবিন নামায় ১ লক্ষ টাকা লেখা। এখন ছেলে কিভাবে মহর আদায় করবে বা কি পরিমাণ আদায় করলে হবে?
উত্তর
বর্ণনা অনুযায়ী, যেহেতু আপনার বন্ধু বিয়ে পড়ানোর সময় এক লক্ষ টাকা মহর ধার্য করাকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেনে নিয়েছেন, সেহেতু উক্ত মহর আদায় করা আপনার বন্ধুর উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। সুতরাং একসাথে আদায় করতে না পারলেও আস্তে আস্তে আদায় করে দিতে হবে। আর যদি স্ত্রীর কাছ থেকে মহরের কিছু অংশ পরিশোধ করে অবশিষ্ঠ অংশ মাফ চেয়ে নেয় এবং স্ত্রীও খুশী মনে মাফ করে দেয়, তাহলে সে পরিমাণ মহর মাফ হয়ে যাবে।
[প্রমাণঃ ফাতওয়া শামী ৩:১০২ #ফাতওয়া দারুল উলূম ৮:২৬৩]
উল্লেখ্য, আমাদের দেশে মহর বেশী ধরার একটা বাতিক শুরু হয়ে গিয়েছে। ছেলের সামর্থ্যের প্রতি লক্ষ্য না করেই বিরাট অংকের মহর ধার্য করা হয়ে থাকে। ছেলেরা তা আদায়ে সামর্থ্য হয় না বা আদায়ে সচেষ্ট হয় না। এভাবে মহর ধার্য করা সুন্নাত তরীকার খিলাফ। শরী‘আতের বিধি মতে, ছেলের সামর্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে মহর ধার্য করা কর্তব্য। মহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ দশ দিরহাম রৌপ্য। যার মূল্য বর্তমান বাজার দর হিসাবে আনুমানিক মাত্র ছয় শত টাকা হয়। গরীবদের জন্য এরকম মহরই ধার্য করা উচিত। মহরে ফাতেমী গরীবদের জন্য নয়। বরং তা অবস্থাশালীদের জন্য।
যদি মহর বেশী ধরা হয়, তবে বেশী আদায় করাই ওয়াজিব হবে। ছেলে রাযী না থাকলে মজলিসের মধ্যেই জানিয়ে দিতে হবে।