বিবাহের সময় ঈমান তাহকীক করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৪ জানুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

অনেকে বলে থাকেন যে বর্তমান ফিতনার যমানায় ইংরেজী শিক্ষিত লোকদের কাছে মেয়ে বিবাহ দিতে হলে তাদের ঈমান তাহাকীক করা জরুরী। কথাটা কতটুকু নির্ভরযোগ্য?

উত্তর

কথাটা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য। কারণ, বর্তমানে স্কুল-কলেজের পরিবেশ সাংঘাতিক করুণ। বদদ্বীনীর সয়লাব উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাস করে ফেলেছে। ওসব প্রতিষ্ঠানে এমন ধরনের অনেক শিক্ষক আছেন, যারা জন্মগত বা নামগত মুসলমান। কিন্তু বাস্তবে তারা নাস্তিক, খোদাদ্রোহী ও ধর্ম বিরোধী। তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের কোনটাই তারা বিশ্বাস করে না। ফরয পর্দাকে তারা ধর্মীয় কুসংস্কার বলে বিশ্বাস করে। মনে করে, এগুলো যুক্তি বহির্ভূত ও আলেম-উলামাদের মনগড়া কথা। যারা বেকুফ তারাই এগুলো মানে। ওই সব নাস্তিক শিক্ষকরা গর্বের সাথে তাদের নাস্তিক্যবাদ প্রচার করে থাকে। ঐ সব শিক্ষকদের কাছে যারা পড়ে, তাদের অনেকেরই পিতা-মাতা দ্বীনদার নয়। আর তারা নিজেরাও দ্বীনী কোন পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রাখে না। এ অবস্হায়ে এই সব বদদ্বীনী পরিবেশ ও নাস্তিক শিক্ষকদের প্রচারণা তাদের বিভ্রন্ত করে ফেলে। শেষ পর্যন্ত তারাও নাস্তিক হয়ে যায়। যদিও তার নাম মুসলমানী নামই থাকে।

মেয়ে বিয়ে দিতে হলে, কোন ঈমানদার ছেলের সংগে বিয়ে দেয়া জরুরী। কারণ, কোন নাস্তিক বা মুরতাদ ছেলের সাথে মুসলিম মেয়ের বিবাহ জায়িয নয়। বিয়ে পড়িয়ে দিলেও সহীহ হবে না। বিয়েই হবে না। সেক্ষেত্রে তাদের উভয়ের দেখা-সাক্ষাৎ, মিল-মিশঅ, আলাপ সবই অবৈধ। যিনা ও ব্যভিচার হবে। তাদের কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তা হারামজাদা গণ্য হবে। কাজেই ইংরেজী শিক্ষিতদের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে হলে, তার ঈমানকে তাহকীক করা বা যাঁচাই করা জরুরী।

[প্রমাণঃ ইসলাহে ইনকিলাবে উম্মত ২:৩৯ #আগলাতুল আওয়াম ১৫৭ #আল ইফাযাত ৫:৩৫৮]

বিবাহের সময় ঈমান তাহকীক করা | ইসলামী যিন্দেগী