শরী‘আতের দৃষ্টতে একাজন আদর্শ স্বামী

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

শরী‘আতের দৃষ্টিতে যেমন স্বামী গ্রহণ করা উচিত?

উত্তর

শরী‘আতের দৃষ্টিতে পাত্র দীনদার থেকে হবে। দীনদারী ব্যতীত বৈবাহিক হুকুম আদায় করা সম্ভব হয় না। পাত্র দীনদার না হলে, আর যত গুণহ থাকুক না কেন অথবা যত ডিগ্রিধারী হোক না কেন এবং যত সুন্দর হোক না কেন, তার নিকট কোন দীনদার মেয়ে কখনো সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ ফরমায়েছেন- তোমাদের নিকট যখন এমন ব্যক্তি বিবাহের পয়গাম দেয়, যার দীনদারী এবং চরিত্র সুন্দর হওয়া সম্পর্কে তোমরা নিশ্চিত, তার নিকট তোমাদের মেয়েদের বিবাহ দাও। এমতাবস্থায় যদি তোমরা বিবাহ না দাও, তবে দুনিয়াতে বড় ফিতনা-ফাসাদ নেমে আসবে (তিরমিযী শরীফ)। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, পাত্র দীনদার হওয়া জরুরী। নতুবা কোন মেয়ের জন্য তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করা বা তার নিকট মেয়ে বিবাহ দেয়া বিপদজনক। দীনদারী বলতে শুধু নামায-রোযাই শেষ নয়। বরং দীনের মৌলিক পাঁচটি বিষয়ের প্রত্যেকটা তার মধ্যে পুরাপুরি থাকতে হবে। যেমন- (১) সহীহ আকীদা সম্পন্ন হতে হবে। (২) ইবাদত তথা নাময, রোযা ইত্যাদির মাসআলা জেনে সেগুলোর পাবন্দ আমলদার হতে হবে। (৩) মু‘আমালাত অর্থাৎ রিযিকের ব্যাপারে হালাল-হারামের বিবেচনা জ্ঞানসম্পন্ন ও পরহেযগার হতে হবে। (৪) মু‘আশারাত অর্থাৎ কাউকে অনর্থক কষ্ট দেওয়া বরং সকলের হক আদায় করার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। (৫) আখলাক চরিত্র সুন্দর হতে হবে, আত্মার রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

এ বর্ণিত-পাঁচটি গুণের প্রত্যেকটি পাত্রের মধ্যে থাকতে হবে। যদি তার মধ্যে কোন একটা পাওয়া না যায়, তাহলে তার দীনদারী পরিপূর্ণ সাব্যস্থ হবে না। যেমনঃ সুদর্শন ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যার নাক, কান, চোখ, সবই সুন্দর ও যথানুরূপ। আর যদি সবই ঠিক থাকে, কিন্তু শুধু চোখ অন্ধ হয় বানাক কাটা হয়, তাহলে তাকে-সুদর্শন বলা হয় না। এমনি ভাবে দীনদার তাকেই বলা হবে, যার মধ্যে বর্ণিত সমস্ত গুণাবলী মওজুদ থাকবে। এ সমস্ত গুণের সমষ্টি তার ভিতর না থাকলে, প্রকৃত মুমিন মুসলমান হওয়া যায় না। [প্রমাণঃ ইসলামী শাদী ৯৭ #তিরমিযী ১:২০৭]

শরী‘আতের দৃষ্টতে একাজন আদর্শ স্বামী | ইসলামী যিন্দেগী