অসদাচরণের কারণে স্ত্রীর বিছানা আলাদা করা
প্রশ্ন
আমার স্ত্রী আমার সাথে অসহ্যকর ব্যবহার করে এবং আল্লাহ তা‘আলার হুকুম ও নবীজির আদর্শ মোতাবেক চলার জন্য আদেশ করি কিন্তু সে তাতে কর্ণপাতই করে না। তাকে সঠিক, পথে চালানোর জন্য যাবতীয় কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আমার ৪টি বাচ্চা আছে। তাই তাকে তালাক দেয়া সমস্যা। তাই তার এসব ব্যবহারের কথা তার অভিভাবকদেরকে জানিয়েছি। এখন আমি তার যাবতীয় ভরণ-পোষণ দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু তার সাথে আমি রাত্রি যাপন বন্ধ রেখেছি এবং বলেছি, যেদিন সে আল্লাহ তা‘আলার হুকুম পুরাপুরি মানার এবং আমার বাধ্যগত হবার অঙ্গিকার করবে সেদিন আমি তার সাথে আপোষ হব উল্লেখিত পথ বেছে নেয়াতে কুরআন ও হাদীসের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী কি না, জানতে চাই।
উত্তর
বর্ণিত পরিস্থিতিতে আপনি যে পথ অবলম্বন করেছেন তাতে আপনি কোন অপরাধী নন এবং কোন গুনাহ্গারও হবেন না। কারণ কুরআনে পাকে বলা হয়েছে, কারো স্ত্রী যদি নাফরমান হয়ে যায়, অথবা এমন আশংকা দেখা দেয়, তবে প্রথমে তাকে নরম ভাষায় বুঝাবে। যদি তাতেও বিরত না হয়, তাহলে তার থেকে বিছানা পৃথক করে নিবে। যাতে করে স্বামীর অসন্তুষ্টি উপলব্ধি করে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে পারে। এতে যদি স্ত্রী সতর্ক হয়ে যায়, তবে বিবাদটিও এখানেই শেষ হয়ে গেল। আর যদি তারপরেও সে ফিরে না আসে। তাহলে তৃতীয় পর্যায়ে হালকা কিছু শাসন করারও অনুমতি রয়েছে। আর তার সীমা হল এই যে, শরীরে যেন সে মারধরের প্রতিক্রিয়া কিংবা জখম না হয়।
যা হোক এ সাধারণ শাসনের মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তাহলে আর বাড়াবাড়ী করবে না।
আর যদি উল্লেখিত এই তিনটি পন্থা অবলম্বন করার পরেও সে সঠিক পথে ফিরে না আসে তাহলে উভয় পক্ষ থেকে দুইজন মুরব্বী (ইনসাফগার, মুত্তাকী ও নিরপেক্ষ) দিয়ে তাদের আপোষ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে। আর তাতেও যদি সফলকাম না হয়, তাহলে স্ত্রীকে পবিত্র অবস্থায় এক বা দুই তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ করে দিবে। শরী‘আত কোন ক্ষেত্রে তিন তালাক দেয়ার প্রয়োজন রাখে নাই, যদিও তা বৈধ।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল যে আপনি যে পথ অবলম্বন করেছেন তা শরী‘আত সম্মত পন্থাই। তবে তাকে বুঝাতে থাকুন। আল্লাহ চাহেন ভাল হয়ে যাবে। [প্রমাণঃ সূরা নিসা ৩৪-৩৫ আয়াত, #মা‘আরেফুল কুরআন সংক্ষিপ্ত, ২৪৫-২৪৭, পৃষ্টা #তাফসীরে মাযহারী ২:১০০০, #সূরা নিসা ৩৪-৩৫]