শরী‘আতের দৃষ্টিতে ভোট
প্রশ্ন
অনেক হক্কানী উলামায়ে কিরাম প্রচলিত নির্বাচন তথা ভোটকে জায়িয বলেন। আবার অনেক হক্কানী আলিম গণতন্ত্রের প্রতি সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া এবং একে কুরআন-হাদীস বিরোধী বলেন। এখন আমরা কোনটির উপর আমল করব? যদি নির্বাচন জায়িয হয়, তাহলে-
(ক) কাকে ভোট দিতে হবে? কোন কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি বা কাফিরকে ভোট দেওয়া যাবে কিনা?
(খ) কোন এলাকায় যদি খোদাভীরু না দাঁড়ায় তাহলে কি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে?
(গ) যাকে ভোট দিব তার পক্ষে ব্যপকভাবে প্রচারণা চালানো যাবে কিনা?
(ঘ) প্রচলিত নির্বাচন জায়িয হলে মসজিদ-মাদরাসার কমিটি বা অন্য ক্ষেত্রে ঐরুপ ভোট আদান-প্রদান ও প্রচারণা জায়িয হবে কিনা?
উত্তর
(ক-খ) প্রচলিত গণতন্ত্র যেমন ইসলাম বিরোধী তেমন গণতন্ত্রের নির্বাচন পদ্ধতিও ইসলামী নীতি বিরোধী। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হওয়া কোন মুসলমানের জন্য জায়িয হবে না। এতে ঈমানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির আশংকা রয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দামাত বারাকাতুহুম এর প্রণীত “কিতাবুল ঈমান” বইটি পড়তে পারেন ।
তবে যেহেতু গণতন্ত্র ইসলামের দুশমনদের পক্ষ থেকে আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তি বিশেষের জন্য এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া মুশকিল ব্যাপার। তাই গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক না হয়ে শুধু ভোটের সময় সকল প্রার্থীদের মাঝে তুলনামূলক ইসলাম, দেশ ও জাতির মঙ্গলজনক বা কমপক্ষে ইসলামের জন্য তুলানামূলক কম ক্ষতিকর এমন প্রার্থীকে ভোট প্রদান করা জায়িয আছে। এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো সকল সৎ মানুষ যদি ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকে তাহলে অসৎ লোকেরা অসৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করে নিবে। তখন সকলেরই অসৎ লোকেরা ফিতনায় পড়তে হবে এবং ইসলামের আরো বেশী ক্ষতি হয়ে যাবে। তাছাড়া পদ্ধতি ভুল হলেও ( অর্থাৎ বোকা আর বুদ্ধিমান সবার রায় সমান হওয়া ) ভোট দান মূলতঃ সাক্ষ্য প্রদান করা। আর ন্যায়ের ব্যপারে সাক্ষ্য প্রদান করা জরুরী, তাই উযর ছাড়া তুলনামূলক যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দান থেকে বিরত থাকলে গুনাহ হবে ।
(গ) মানুষকে কষ্ট দেওয়া ছাড়া এবং কারো সম্পদের কোন প্রকার ক্ষতি সাধন ব্যতীত ভদ্রভাবে শরী‘আতের গণ্ডিতে থেকে সৎপ্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা জায়িয ।
(ঘ) মসজিদ বা মাদরাসা কমিটি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করার আদৌ প্রয়োজন নেই। তাই এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বনে না করে, দ্বীনদার সমঝদার মুসল্লীরাই পরার্মশের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে কমিটির সদস্য বানিয়ে নিবে। [সূরা আল-আনআম ১১৭, আবু দাউদ ৪:১২২, সূরা বাকারা ২৮৩, সূরা নিসা ১৩৫, জাওয়াহিরুল ফিকহী মাকালা ২:২৮৬]