পূর্বে যিনাকারীনী ছিল বলে নিজ স্ত্রীকে তালাক প্রদান
প্রশ্ন
আমার এক বন্ধু নতুন বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে জানা ছিল, মেয়েটি সতী। কিন্তু বিয়ের পরে জানতে পারল যে, তার স্ত্রী অসতী বা যিনাকারীনী। আমার বন্ধু এ খবর জানতে পেরে স্ত্রীকে তালাক দিতে চায়। এটা তার জন্য শরী‘আতের দৃষ্টিতে জায়েয হবে কি-না?
উত্তর
স্বামী যে জানতে পারলো যে, তার স্ত্রী যিনাকারীনী ছিল-এর সঠিক ভিত্তি কি? যে তথ্যের ভিত্তিতে স্ত্রীকে যিনাকারীনী মনে করছেন, তার উপর কতটুকু নির্ভর করা যায়? শরী‘আতের দৃষ্টিতে যিনাকারীর স্বীকারোক্তি বা চার জন পুরুষ স্বাক্ষীর চাক্ষুশ দেখার দ্বারা যিনা প্রমাণিত হয়। এ ক্ষেত্রে কি তা হয়েছে? ২/১ জনের কথার ভিত্তিতে তার স্ত্রীকে যিনাকারীনী বিশ্বাস করা উচিত নয়। কারণ যারা এরূপ খবর দিচ্ছে, তাদের কোন গরয বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সুতরাং- এ সমস্ত খবরের প্রতি কান দেয়া উচিত নয়। এমন কি যদি শরী‘আত সম্মতভাবে প্রমাণিত হয়ে যায় যে, বাস্তবিকপক্ষে সে মেয়েটি যিনাকারীনী ছিল, কিন্তু পরে সে খালিস দিলে তাওবা-ইস্তেগফার করে নিজেকে সংশোধন করে নিয়েছে, এখন আর ঐ ধরনের কোন দোষ তার মধ্যে নেই- বরং নিজেকে পর্দায় রাখে এবং স্বামীর কথামতই চলে, সে ক্ষেত্রে স্বামীর জন্য ভাল যে, তাওবার কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাকে মাফ করে দিবেন বলে বর্ণনা যখন হাদীসে পাওয়া যায়, তখন তিনিও সে পুরাতন ঘটনার কারণে স্ত্রীকে কু-নযরে না দেখে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তাতে করে তিনিও বিভিন্ন বিচ্যুতিতে আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমা পাওয়ার আশা করতে পারেন। তিনি নিজে চিন্তা করলে দেখবেন তিনিও আল্লাহর দরবারে অনেক গুনাহ করেছেন সেগুলোর প্রতিও খেয়াল করা দরকার। অনেক স্বামীর এ ধরনের বদ অভ্যাস থাকে যে, খামাখা স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে টানা-হেচড়া করে। এটা মোটেও ঠিক নয়। এটা অশান্তির বীজ এবং সংসার ধ্বংস করার প্রক্রিয়া।
তবে হ্যাঁ, উক্ত অভিযুক্ত মেয়েটির চলাফেরা যদি বিয়ের পরেও মার্জিত না হয়, বরং বেপর্দা বেগানা পুরুষদের সাথে কথাবার্তার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় এবং স্বামীর অবাধ্য হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে উক্ত মহিলাকে সংশোধন করার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তালাক দেয়া জায়েয হবে। [প্রমাণঃ আদদুররুল মুখতার ৩/৭,৮]