বেপর্দা মেয়ের প্রতি পিতার করণীয়

প্রশ্ন

স্ত্রী অবাধ্য হলে, পাপ পথে চললে বা শরী‘আতের নির্ধারিত সীমালংঘন করলে, কুরআনে নির্দেশিত তিন প্রকারের সংশোধনীর চেষ্টা করেও বিফল হলে, তালাক দেওয়ার বিধান শরী‘আতে আছে। ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করার সুযোগও রয়েছে। কিন্তু কারো মেয়ে যদি অবাধ্য হয়, পাপ পথে চলে, শরী‘আতের বিপরীত চলে, কিন্তু কারো মেয়ে যদি অবাধ্য হয়, পাপের পথে চলে, শরী‘আতের বিপরীত চলে, পিতা শত চেষ্টা করেও বশে বা সৎপথে আনতে অক্ষম হয়, এতে তার মান- সম্মান ও ইজ্জত-হুরমত বজায় রাখতে পারে না, মেয়েটির কারণে সমাজে মাথা উঁচু করে চলতে পারে না, বরং ধিকৃত হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া যায়? শরী‘আতের এর কি সমাধান রয়েছে?

উত্তর

ছেলেমেয়েদের সৎপথে পরিচালিত করার জন্য বাল্যকালেই তাদেরকে দীন শিক্ষা দেয়া মা-বাবার উপর ফরজ করা হয়েছে। সেই প্রথম ফরয তরক করার কারণেই আজ বদদীনী পরিবেশে থেকে এবং দীনী শিক্ষার বদলে নাস্তিক্যবাদী কু-শিক্ষা পেয়ে তারা বিপথগামী হচ্ছে। তাদেরকে বাল্যকালেই দীন ও ইসলামের বিধি-বিধান শিক্ষা না দিলে অভিভাবকগণ পরকালে জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন।

মেয়ের ব্যাপারে পিতার কর্তব্য হচ্ছে, শিশুকাল থেকেই দীনী পরীবেশে রেখে দীনদারী শিক্ষা দিয়ে আদর্শ চরিত্র অধিকারীনী রূপে তাকে গড়ে তুলবে। অতঃপর বয়ঃপ্রাপ্তা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দীনদার, পরহেযগার পাত্র দেখে তাকে অবিলম্বে বিবাহ দিয়ে দিবেন। সাবালিকা হওয়ার পরও যদি অভিভাবক তার বিবাহের বন্দোবস্ত না করে এবং এমতাবস্থায় যদি সে পাপ কাজে লিপ্ত হয়, তবে অভিভাবকও সেই গুনাহর অংশীদার হবে। (মিশকাত শরীফ-২:২৭১)

আজ অধিকাংশ পিতা-মাতা ছেলেমেয়েকে কুরআন শিখায় না, দীনী ইলম শিখায় না। বালেগ হওয়ার পর তাদের হেফাযতে রেখে তাড়াতাড়ি তাদের বিবাহ-শাদীর ফিকির করে না। যদ্দরুন পরে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শরী‘আতের বর্ণিত নির্দেশের উপর ধারাবাহিকভাবে আমল করলে এ ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি এক প্রকার থাকে না বললেই চলে। কিন্তু মানুষেরা শরী‘আতের বরখেলাফ করে যখন পেরেশানীতে পড়ে, তখন শরী‘আতকে দোষারোপ করে নিজের ঈমান নষ্ট করে ফেলে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে ছেলেমেয়ে কাউকে অন্যায়ের কারণে ত্যাজ্য করার বিধান নেই। বরং, বুঝিয়ে সৎপথে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আর দুনিয়াবি আইনে ত্যাজ্য করলেও তারা শরী‘আতের বিধান মোতাবেক পিতা-মাতার সম্পদ থেকে মাহরূম হয় না। তবে তার সম্পূর্ণ সম্পদ যদি অন্য আওলাদকে মালিক বানিয়ে হিবা করে দেয়, সেক্ষেত্রে অবশ্য ত্যাজ্য সন্তানরা অংশ পায় না। সন্তান নাফরমানীতে ডুবে থাকলে তার ব্যাপারে এ ধরনের সিন্ধান্ত নেয়াই উত্তম।

আপনি তাকে সৎপথে আনার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। সম্পদ থেকে মাহরূমীর ভয় দেখিয়ে বা অন্য কোনরূপ শাসনে কন্টোলে আনার চেষ্টা করুন। আর তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে মহিলাদের কোন দীনী পরিবেশ ও দ্বীনি তালীমের মধ্যে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। তৎসঙ্গে দীনদার পাত্র দেখে তাকে যথাশীঘ্র বিবাহ দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। পাশাপাশি তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে অনবরত দু‘আ রোনাযারী করতে থাকুন এবং তাকে দীন শিক্ষা না দেয়ার কারণে নিজের ভুলের প্রতি অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করুন।

(প্রমাণঃ ফাতাওয়া মাহমূদিয়া-১৪:৪৩৯, ফাতাওয়ায়ে রাহীমিয়া-৬:৪৭০/১৫০, ফাতাওয়া আব্দুল হাই-৩:৯, ইমদাদুল মুফতীন-১০৫১)