অবৈধ মিলনে সন্তানের বংশসূত্র নির্ধারণ

প্রশ্ন

জনৈক মহিলা অবৈধ মিলনের ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং একটি সন্তান প্রসব করে। বর্তমানে ছেলের বয়স পাঁচ বছর। আর যার সাথে উক্ত মহিলার এ অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে, সেও বর্তমানে জীবিত। এদিকে উক্ত মহিলার অন্যত্র বিবাহ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং, বর্তমানে উক্ত পুরুষ, মহিলা ও প্রসবকৃত এ সন্তান সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান কি?

উত্তর

শরী‘আতের দৃষ্টিতে তাদের এ অবৈধ দৈহিক মিলন সম্পূর্ণ হারাম, যিনা ও মহাপাপ হয়েছে। ইসলামী হুকুমত বহাল থাকলে ব্যভিচারী-ব্যভিচারিণী উভয়কে একশতটি করে দোররা মারা হত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত বহাল নেই বিধায় মুফতীয়ানে কিরামের পরামর্শ মুতাবিক তাযীরের বিধান প্রয়োগ করা যেতে পারে। সাথে সাথে উভয়ের জন্য আল্লাহর নিকট তাওবা করা একান্ত জরুরী। অন্যথায় আখিরাতে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

আর উক্ত সন্তানটি যদি সেই মহিলার অন্যত্র বিবাহ হওয়ার আগে জম্মগ্রহণ করে থাকে, তাহলে তার বংশসূত্র তার মায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। অর্থাৎ ঐ ছেলেটি তার মায়ের সন্তান বলে গন্য হবে। কোন ক্রমেই ব্যভিচারী পুরুষটির সন্তান বলে বিবেচিত হবে না। সুতরাং, তার উপর এ সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্বও অর্পিত হবে না। তেমনিভাবে একই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলেও উক্ত সন্তানটি তার মীরাছেরও অধিকার হবে না। তবে উক্ত ছেলে তার মায়ের সম্পত্তি থেকে মীরাছ পাবে। আর এ ছেলে বয়স্ক না হয়ে নিজ উপার্জন করার পূর্ব তার ভরণ-পোষণের দায়িত্বও তার মায়ের উপর অর্পিত হবে।

উল্লেখ্য যে, যদি ঐ ছেলেটি উক্ত মহিলার বিবাহের ছয় মাস বা তার চেয়ে অতিরিক্ত সময়কালে জম্মগ্রহণ করে তাহলে শরী‘আতের দৃষ্টিতে বর্তমান স্বামীর সন্তান বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে যদি উক্ত মেয়াদ কালের আগে জম্মগ্রহণ করে থাকে এবং মহিলার স্বামী ছেলেটিকে নিজের ছেলে হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে ছেলেটি বৈধ সন্তান হিসাবে বিবেচিত হবে এবং মহিলার বৈধ স্বামী থেকে তার বংশধারা সাব্যস্ত হবে। [প্রমাণঃ সূরা নূর ২, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ৭:১১২, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪:৩৪]