কোন মহিলার সাথে ব্যভিচারের পর তার মেয়েকে বিবাহ করা
প্রশ্ন
একজন অবিবাহিত পুরুষ একজন বিবাহিত মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে উক্ত মহিলার মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। বিয়ের পর জামাই উক্ত শাশুড়ীর সাথে আর ব্যভিচারের লিপ্ত হয়নি। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর সে ঘরে ৫ জন সন্তান হয়েছে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, বিবাহিত-অবিবাহিত যে কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলে কিংবা কামভাব সহকারে তাকে স্পর্শ করলে, চুমু দিলে, অথবা কামভাব সহকারে তার যৌনাঙ্গের ভিতরাংশের দিকে তাকালে, সে পুরুষের জন্য উক্ত মহিলার উদ্ধর্তন ও অধঃতন সব মহিলারা স্থায়ী হারাম হয়ে যায়। একথা তার জানা ছিল না। এখন এ বিবাহ হারাম হবে কিনা? যদি এ বিবাহ হারাম হয়, তবে যেহেতু ৫ জন সন্তান আছে, সেহেতু এ বিবাহ বৈধ্য করার জন্য ইসলামী বিধান আছে কি-না? উল্লেখ্য যে, ১৫ বছর যাবত বিয়ে হয়েছে এবং এখনও তারা একসাথে আছে।
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত ইসলামী বিধান সম্পূর্ণ সহীহ এবং যিনাকারী ব্যক্তির জন্য উল্লেখিত মেয়েটি কোন দিনও হালাল হবে না। কাজেই উক্ত মেয়ের সাথে তার বিবাহই শুদ্ধ হয়নি। এতদিন তাদের মিলামিশা সবই নাজায়িয ও হারাম হয়েছে। এজন্য তাদের উভয়কে খালিস দিলে তাওবা করতে হরে।
মাসআলা জানার পর এখনই তাদের পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরী। উক্ত মহিলার জন্য অন্য স্বামী গ্রহণের আগে ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত পালনের পর উক্ত মহিলা অনত্র বিবাহ বসতে পারে।
প্রকাশ থাকে যে উল্লেখিত বিবাহ শুদ্ধ না হলেও শরী‘আতের বিশেষ হিকমতের কারণে সন্তান-সন্ততিগুলো হারামজাদা গণ্য হবে না। বরং পিতার থেকে তাদের নসব প্রমাণ হবে এবং পিতার থেকে তারা মীরাস-উওরাধিকার পাবে।
[প্রমাণঃ হিদায়া ২:৩০৯ #আহসানুল ফাতওয়া৫:৪৫৪ #ফাতওয়া দারুল উলূম ৭:৩২৭ #ইমদাদুল মুফতীন ৫৫৩ #আযীযুল ফাতওয়া ১:৫৩৪ #কিফায়াতুল মুফতী ৫: ২৩ #রদ্দুল মুহতার ৩:৩১ #আহসানুল ফাতওয়া ৫:৬২ #ফাতওয়া আবদুল হাই ২:৮৪]