মসজিদে তালীম করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা, আযান ইক্বামাত ও ইমাম মু‘আযযিন

প্রশ্ন

আমাদের মহল্লার জামে মসজিদে মুসল্লীদের ইশার নামাযের পর বেতের/নফল নামায পড়া অবস্থায় তাবলীগের সমর্থক মুসল্লীগণ মূল মসজিদের মধ্যস্থলে কিতাবী তালীম আরম্ভ করেন। এমতাবস্থায় যাদের নামায বাকী থাকে, তারা বারান্দায় গিয়ে বাকী নামায আদায় করেন। এহেন অবস্থায় জনৈক মাওলানা সাহেব সূরা বাকারার ১১৪ নং আয়াতের উল্লেখ্য করে তাবলীগী ভাইদেরকে এমনি পরিস্থিতিতে মসজিদে তালীমের কাজ না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তাঁরা সে নির্দেশ মানেন নি। বরং এমনিভাবে বেতের/নফল চলাকালীন সময়ে মূল মসজিদের ভিতর নামাযরত মুসল্লীগণের অসুবিধা করে তালীমের কাজ চালিয়ে আসছেন। এখন প্রশ্ন হল,

১) মসজিদের বারান্দা থাকা অবস্থায় মূল মসজিদে তালীমের কাজ চলতে পারে কি না?

২) সূরা বাকারার ১১৪ নং আয়াতের হিদায়াত এ পর্যায় প্রযোজ্য কিনা?

উত্তর

মসজিদে বয়ান করা, তালীম করার প্রচলন রাসূল ﷺ থেকেই পাওয়া যায়। মসজিদে যেমনভাবে নামায পড়ার কথা আছে, তেমনিভাবে তালীম করার কথাও আছে। তবে তালীমের কাজ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন এতে মুসল্লীগনের নামাযের ব্যাঘাত না ঘটে। মসজিদের বারান্দা থাকলে, বারান্দায় তালীম করার ব্যবস্থা নিলে, সেটাই উত্তম। এতে মসজিদের ভিতরের নামাযীগন ইচ্ছামত নামায পড়তে পারবেন। আর তালীমও যথাসময় শুরু করতে সহজ হবে। অবশ্য যদি মসজিদের ভিতরের তালীম হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যদি দু’একজন মুসল্লী ইজতিমায়ী আমলে না বসে নফল পড়তে চায়, তাহলে উচিত মসজিদের বারান্দার বা নিজের বাসস্থানে গিয়ে নফল উত্তম। অবশ্য তাদের উচিত-ইজতিমায়ী আমলের সময় তার মধ্যে শরীক হওয়া। কারণ, শরী‘আতে ইজতিমায়ী আমলের গুরুত্ব অত্যাদিক।

সূরা বাকারার ১১৪ নং আয়াতের তাফসীরে প্রসঙ্গে মুফতী শফী রহ. বলছেন, মসজিদে যিকির ও নামাযে বাধা দেওয়ার বা ক্ষতিগ্রস্ত করার যত পন্থা হতে পারে, তার সবগুলোই হারাম। তন্মধ্যে একটি প্রকাশ্য পন্থা এই যে, মসজিদে গমন করতে অথবা সেখানে নামায তিলাওয়াত করতে পরিষ্কার ভাষায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা, দ্বীতীয়তঃ মসজিদে হট্টগোল করা যাতে মুসল্লীদের ইবাদতে অসুবিধা হয়। এমনিভাবে ইত্যাদিতে নামাযীদের নামায বিঘ্ন সৃষ্টি করা বাধাদানের নামান্তর। তাই উপরে বর্ণিত সুরতের উপর আমল করলে, সব সমস্যারই সহজ সমাধান হয়ে যায়। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী ১:৬৬০; তাফসীরে মা’আরীফুল কুরআন ১:২৪১/৪২]