একসাথে অধিক স্বামী গ্রহণের অনুমতি না দেয়ার কারণ
প্রশ্ন
ইসলাম পুরুষকে চারটি স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। অথচ মহিলাকে এক সাথে একের অধিক স্বামী গ্রহণের অনুমতি দেয়নি কেন?
উত্তর
মহান আল্লাহ মানব জাতিকে সৃষ্টি করে নির্ধারিত কিছু নিয়ম-নীতি বলে দিয়েছেন। সে নিয়ম অনুযায়ী চললে, প্রকৃত কামিয়াবী এবং তার থেকে সুফল লাভ করার আশা করা যায়। অন্যথায় তা হবে বিপর্যয়বাহী ভয়াবহ ও মারাত্মক ক্ষতিকর। বিবাহ-শাদীর ব্যাপারেও পুরুষকে এক সাথে চারটি বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে আর মহিলাদেরকে এক সঙ্গে মাত্র একজন স্বামীর সাথে বসবাস করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। মহিলাকে একাধিক স্বামী গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়নি। এর কারণ হল- স্বাভাবিকভাবে একজন পুরুষ এক সাথে চার জন স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম এবং চার জন স্ত্রী থেকে তার একক ঔরসে সন্তান জন্মগ্রহণ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানের পিতা একজনই হবে এবং মাতাও একজনই হবে। ফলে পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব নিষ্কলুষ ও সংরক্ষিত থাকবে। পক্ষান্তরে যদি একজন স্ত্রী একসাথে কয়েকজন পুরুষের সাথে ঘর-সংসার করতে প্রয়াসী হয়, তবে তাতে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধায় সম্মুখীন হতে হয়। প্রথমতঃ একজন সুস্হ বিবেক সষ্পন্না মহিলা জন্মগতভাবেই একাধিক স্বামীর সাথে থাকা পছন্দ করে না এবং এটাকে তার নিজের বিবেক ও রুচির পরিপন্থী মনে করে। দ্বিতীয়তঃ একজন মহিলা একসাথে একাধিক স্বামীর সাথে ঘর সংসার করলে, তাদের উভয়ের জরুরত পূর্ণ করতে সে সক্ষম নয়। তৃতীয়তঃ একজন মহিলা চারজন স্বামীর সাথে যৌন মিলনে আবদ্ধ হলে, সন্তানের পিতৃত্ব অরক্ষিত হয়ে যায় এবং সে কার ঔরসের গণ্য হবে, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে সন্তানের নসব বা বংশ পরষ্পরা নষ্ট হয়ে যায়। অথচ তা সন্তানের এবং অমূল্য সম্মান-যা পাওয়া তার জন্মগত অধিকার। তা ছাড়া চারজনের সাথে মিলনের দ্বারা মহিলার ভিন্ন ভিন্ন চারটি সন্তান জন্মগ্রহণও অসম্ভব। কারণ-তার ধারণ ক্ষমতা সীমিতমানুষ আশরাফুল মাখলূকাত তারা হায়ওয়ান-জানোয়ার নয়। তাই তাদের বংশ পরিচিতি রক্ষা করা জরুরী হওয়ার তাগিদে একজন রমনী একাধিক স্বামীর ঘর করতে পারে না। যে সকল মহিলারা বিধর্মী আইনের ছত্রছায়ায় একাধিক স্বামীকে সঙ্গ দিচ্ছে, তাদের সন্তানদের পিতৃ ঠিকানা থাকে না। এভাবে আগাছা-পরগাছায় তখন সমাজ ভরে যাবে এবং সম্ভ্রান্ত বংশধারা লুপ্ত হবে। আজকের ইউরোপ এর জ্বলন্ত প্রমাণ।