হযরত ঈসা আ.-কে অবৈধ সন্তান বলা

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় জনৈক ব্যক্তি হযরত ঈসা আ.-কে অবৈধ সন্তান বলেছে। প্রশ্ন হল, সেই ব্যক্তিকে কাফির বলা যাবে কি? যদি কাফির হয় তবে তার স্ত্রী তালাক হবে কি? আর তার সাথে আমরা সম্পর্ক রাখতে পারব কি? উত্তর জানিয়ে সুখী করবেন।

উত্তর

হযরত ঈসা আ.-একজন পুতঃপবিত্র নবী এবং রাসূল। তিনি পিতার মাধ্যম ছাড়া আল্লাহ তা‘আলার হুকুমে হযরত মারইয়াম আ.-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন। এ সম্পর্কে মহান রাব্বুল আ`লামিন পবিত্র কুরআন মাজীদে সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হযরত ঈসা আ.-কে অবৈধ সন্তান বলার অর্থ হলো কুরআনকে তথা আল্লাহর কালামকে অস্বীকার করা। আর যদি কেউ কুরআনকে তথা আল্লাহর কালামকে অস্বীকার করে তা হলে সে মুরতাদ হয়ে যায়। তাছাড়া কোন নবীকে গালি দেয়া বা মন্দ বলা কুফুরী কাজ।

সুতরাং, উক্ত ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে গেছে। আর কোন মুরতাদের সাথে মুমিন মহিলাদের বিবাহ শুদ্ধ নয়। তাই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। অতএব, উক্ত মহিলা তার ইদ্দত পালনের পর তিন হায়েয এবং গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসবের পর অন্য কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বসতে পারবে।

শরী‘আতের দৃষ্টিতে মুরতাদের হুকুম হল, তার সামনে ইসলামের সহীহ আকিদা পেশ করা হবে। যদি সে কবুল করে তাহলে তো ভাল। অন্যথায় তাকে তিন দিন কারাগারে বন্দী করে রাখতে হবে যাতে সে পুনরায় ইসলামের দিকে ফিরে আসে। যদি তিন দিনের মধ্যে ফিরে না আসে তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ ধরনের খোদাদ্রোহীদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখা এবং তাদের সাথে উঠাবসা করা হারাম। এমন লোক বিনা তাওবায় মারা গেলে মুসলমানদের গোরস্থানে তাদের দাফন করাও জায়িয হবে না। [সূরা মারইয়াম ১৯:৩০, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ২:২৬৩, রদ্দুল মুহতার ৪:২২২, দারুল উলূম ১২:৩৬৩]

قال ابو حفص الكبير كل من اراد بقلبه بغض نبى كفر عالمغيرية : ٢٦٣/٢ سئل عمن ينسب الى الانبياء الفواحش الخ قال يكفر لانه شتم لهم واستخفافا بهم .

قال في المسايرة وبالجملة فقد ضم الى التصديق بالقلب أو بالقلب واللسان في تحقيق الايمان امور والاخلال بها اخلال بالايمان اتفاقا كترك السجود لصنم وقتل نبى والاستخفاف به - رد المحتار - ٢٢٢/٤