গ্রামে জুমু‘আর নামায আদায় করা
প্রশ্ন
গ্রামাঞ্চলে জুমু‘আর নামায জায়িয কি-না? আমাদের গ্রামে রাস্তা-ঘাট আছে, মোটামুটি প্রয়োজনীয় জিনিস দোকানে পাওয়া যায়। শিক্ষা-দিক্ষার ব্যবস্থাও আছে?
উত্তর
গ্রামে জুমু‘আ জায়িয কি-না একথা জানার পূর্বে গ্রাম কাকে বলে এবং শহর কাকে বলে তা জানা প্রয়োজন। কারণ- জুমু‘আর নামায সহীহ হওয়ার জন্য শহর, উপশহর বা বৃহৎগ্রাম হওয়া শর্ত। ছোট গ্রামে জুমু‘আ সহীহ হয় না। শহর ও বৃহৎগ্রামের সংজ্ঞা জানলেই বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে জুমু‘আ সহীহ হওয়া-না হওয়া সহজে নিরুপণ করা যাবে।
শহর ও বৃহৎ গ্রাম-এর সংজ্ঞা বহির্ভূত যে সকল ছোট পল্লী পাওয়া যাবে, তাতে জুমু‘আ সহীহ হবে না। [হিদায়া ১:১৬৮]
শহর ও বৃহৎ গ্রামের সংজ্ঞা
হযরত ইমাম ইউসুফ (রাহঃ) হতে একটি রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে, যার অর্থঃ শহর বা বৃহৎ গ্রাম ঐ আবাদীকে বলা হয়, যে খানকার প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ লোকগণ সেখানকার সবচয়ে বড় মসজিদে একত্রিত হলে, মসজিদে স্থান সংকুলান হয় না। শহর বা বড় গ্রামের সংজ্ঞার ব্যাপারে অনেক মত থাকলেও হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ (রাহঃ) এর উল্লেখিত সংজ্ঞাই অধিকাংশ ফুকাহাগণ গ্রহণ করেছেন এবং এর উপরই ফাতওয়া দিয়েছেন।
অতএব, যে আবাদীর বয়ঃপ্রাপ্ত সুস্থ পুরুষের সংখ্যা এত বেশী যে, সেখানকার বড় মসজিদে একত্রিত হলে মসজিদের তাদের সংকুলান হয় না, তাকে শরঈ শহর বা বৃহৎ গ্রামের অন্তর্ভূক্ত বলা হবে এবং সেখানে জুমু‘আ আদায় করা জরুরী হবে। এই সংজ্ঞা যেখানে পাওয়া যাবে না, তাকেই গ্রাম বলা হবে। এরুপ গ্রামে জুমু‘আ সহীহ হবে না। বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশের পরিভাষায় যে গ্রামের প্রচলন আছে, তার অধিকাংশই শরী‘আতের দৃষ্টিতে শহর বা শহরতুল্য বড় গ্রামের আওতায় পড়ে। তাই সেখানে জুমু‘আ পড়া জরুরী। না পড়লে, গুনাহগার হতে হবে এবং হাদীসে এর উপর যেই ধমকি এসেছে, তার কোপানলে পড়তে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি বিনা উযরে ইচ্ছাপূর্বক তিন জুমু‘আ তরক করে, তার উপর (নাফরমানীর) মহর মেরে দেয়া হয় (আবূ দাউদ শরীফ)। উক্ত মাসআলার আলোকে বর্ণনা অনুযায়ী প্রশ্নে বর্ণিত গ্রামটি শহরের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং উক্ত গ্রামে জুমু‘আর নামায সহীহ হবে। বরং উক্ত গ্রামে জুমু‘আর নামায পড়া জরুরী। না পড়লে, সকলেই গুনাহগার হবে। প্রশ্নে বর্ণিত গ্রামটি যদিও আমাদের পরিভাষায় গ্রাম। কিন্তু শরী‘আতের পরিভাষায় তা শহর বা বৃহৎগ্রামের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য যে, এরুপ স্থানে অনেকে ‘আখিরী যোহর’ বা ‘ইহতিয়াতুল যোহর’ পড়ে থাকেন তা নিতান্তই ভুল ও বর্জনীয়।
[প্রমাণঃ আদ-রুররুল মুখতার ২:১৩৭# বাদায়েয়ূস সানায়ে ১:২৬০# আল-বাহরুল রায়িক২:২৪৫]
شرط ادائها المصر........شرط صحتها ان توادي في مصر حتي لا تصح قرية....مفازة لقول علي رضـ:لا جمعة و لا تشريف ولا صلاة فطر ولا اضحي الا في مصر جامع او في مدينة عظيمة – البحر الرائق-2/245