মসজিদে ছবি বিশিষ্ট ঘড়ি রাখা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা, আযান ইক্বামাত ও ইমাম মু‘আযযিন

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের কাছেই একটি গ্রামের মসজিদের মিম্বারের দক্ষিণে একটি দেয়াল ঘড়ি ঝুলানো আছে। ঘড়ির ডায়ালে ১২ টি ঘরে হজ্জ সম্পর্কিত ১২ টি ছবি আছে। তম্মধ্যে একটি হাজরে আসওয়াত চুম্বনরত মুখ সহ মানুষের মাথাটুকু পরিষ্কার দেখা যায়। আবার কোন অভিজাত শ্রেণীর বাসার শো কেসে বিভিন্ন প্রাণীর মূর্তি বা পুতুল, আবার দেয়ালে কাঁচে বাঁধানো কোনো পূর্ব পুরুষ কিংবা গৃহকর্তার নিজেরই বা সন্তানাদির ছবি ঝৃলানো থাকে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এসবের হুকুম কি? এরূপ ছবি লটকানো বা মূর্তি রাখা ঘরে নামায শুদ্ধ হবে কিনা?

উত্তর

প্রানীর ছবি অথবা মূর্তি বানানো বা ঘরে রাখা হারাম ও নাজায়িয। বর্তমানে আভিজাত্যের দাবীদার অধিকাংশ লোকদের ড্রইংরুমে এ ধরণের ছবি ও মূর্তি দেখা যায়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এ ধরনের প্রাণীর ছবি বা মূর্তি রাখা হারাম। ছবি বা মূর্তি রাখা ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না বলে হাদীসে রয়েছে। আর রহমতের ফেরেশতা ঘরে প্রবেশ না করলে, সে ঘরে বরকত ও দ্বীনদারী থাকে না। সুতরাং নিজের বা পরলোকগত কোন মুরব্বীর অথবা ছেলেমেয়েদের ছবি লটকিয়ে রাখা বা কোন প্রাণীর ছবি যুক্ত ক্যালেণ্ডার রাখা অথবা গ্লাসে বাঁধাই করে সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম।

তবে প্রাণী ব্যতিত অন্য কোন জিনিসের ছবি তোলা বা ঘরে লটকিয়ে রাখা জায়িয আছে। যেমন, গাছ-পালা, ফুল-ফল, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী ইত্যাদি প্রানহীন বস্তুর ছবি। যে রুমে প্রানীর মূর্তি লটকানো থাকে বা গ্লাসে বাঁধাই করা থাকে অথবা শো কেসে কোন প্রাণীর মূর্তি থাকে, উক্ত ঘরো নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী। চাই সে ছবি সামনে, উপরে, ডানে, বামে বা যে কোন পার্শ্বেই হোক, সর্ব অবস্থায় মাকরুহে তাহরীমী হবে। তবে সরাসরি নামাযীর সামনে ছবি লটকানো থাকাটা অধিকতর মাকরূহ।

প্রশ্নে বর্ণিত মসজিদে লটকানো ঘড়ির হাজরে আসওয়াত চুম্বনরত ছবির হুকুম এই যে, যেসব ছবির মাথা কাটা বা মোছা কিংবা মাথা ও চেহারার অঙ্গসমূহ অস্পষ্ট, অথবা মাথার পিছনের দিক দিয়ে ছবি নেয়া হয়েছে, সে সব ছবি অন্য কোন জায়িয ছবির সাথে চিহ্নিত হয়ে গেলে, তা ঘরে রাখা বা ব্যবহার করাও জায়িয আছে। পক্ষান্তরে যদি মাথা এবং চেহারার অঙ্গসমূহ স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং সেটা স্পষ্ট মানুষের ছবি বলে বুঝা যায়, তাহলে সে ছবি অন্য কোন জায়িয ছবির সাথেও ঘরে বা মসজিদে রাখা নাজায়িয। সুতরাং হাজরে আসওয়াত চুম্বনরত ছবি যদি স্পষ্ট ছবির আওতায় পড়ে, তাহলে তা মসজিদে লটকিয়ে রাখা জায়িয হবে না। আর যদি অস্পষ্ট ছবি হয়, যার চেহারার গঠন স্পষ্ঠভাবে বুঝা যায় না, তাহলে সেটা জায়িযের আওতায় পড়বে।

চেহারা স্পষ্ট ও অস্পষ্টের ব্যাখ্যা এই যে, এমন ছোট ছবি যা জমিনের উপর রাখা থাকলে, মধ্যম ধরণের চোখের জ্যোতি সম্পন্ন ব্যক্তি দাঁড়ানো অবস্থার তার চেহারার অঙ্গসমূহ তথা চোখ, কান, নাক, ইত্যাদি স্পষ্টভাবে দেখতে পায় না, তাই অস্পষ্ট ছবি। আর যদি চেহারার অঙ্গ সমূহ পরিষ্কার দেখা যায়, তাহলে সেটা স্পষ্ট ছবি। প্রমাণঃ বাদায়িয়ুস সানায়ি ১:১১৬; ইমদাদুল মুফতীয়ান ৯৩৩; জাওয়াহিরুল ফিক্কহ ৩:২৩৩]